রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‍্যাব।

দেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে এটি দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান যার বিরুদ্ধে মামলা হলো। এর আগে জেকেজি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার প্রমাণ পেয়ে সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলো।

সাহেদের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সদরদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়, প্রতারণা মামলার আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়।

৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, করোনার চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করায় অমানুষের পরিচয় দিয়েছেন তারা। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের মানুষ বলতে নারাজ।

সারোয়ার আলম বলেন, প্রায় ৪ হাজার মানুষের করোনার ভুয়া টেস্ট করেছে রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কতটা অমানবিক ও খারাপ হলে মানুষ এতটা নিম্ন কাজ করতে পারে। চিকিৎসা খাতের অনিয়ম দুর্নীতি যারাই করবে আমরা সম্মিলিতভাবে সেসব প্রতিহত করব।

এই অভিযানে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদকে প্রধান করে অন্য সকল জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি রিজেন্ট হাসপাতালে দুইটি শাখা ও প্রধান কার্যালয় সিলগালার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়ার পর সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২৬৪টি স্যাম্পল রিজেন্ট টেস্ট করেছে এবং এর বাইরে ৬ হাজারের বেশি স্যাম্পল টেস্ট না করেই তারা ভূয়া রিপোর্ট দিয়েছে।

একই সাথে এ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ২০১৪ সাল থেকে নেই আর আইসিইউ যেটা আছে এটা নরমাল ওয়ার্ডও না। সেখানে পুরনো কাথা বালিশ থেকে আরম্ভ করে সব আছে। এর যে ডায়াগনসিস ল্যাব সেখানে কোনো মেশিন নেই, সেখানে কোনো টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিয়েছে।

ফ্রিজের মধ্যে এক অংশে রি এজেন্ট আর অন্য অংশে আইয়ের মাছ পাওয়া গেছে। এর যে ডিসপেনসারি সেখানে সব সার্জিক্যাল আইটেম ৫/৬ বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মালিকের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নেই।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরার ছেলে সাহেদ স্কুলের শেষ দিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় ঢাকায় চলে আসেন। তার মা সুফিয়া করিম এক সময় মহিলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাবা সিরাজুল করিম ছিলেন ব্যবসায়ী। শহরের কামালনগরে করিম সুপার মার্কেট নামে একটি বিপণি বিতান ছিল তাদের।

সাহেদের মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা ওই মার্কেট বিক্রি করে স্থায়ীভাবে সাতক্ষীরা ছেড়ে ঢাকা চলে আসেন। তবে সাহেদ মাঝে মাঝে সাতক্ষীরায় যেতেন এবং নিজেকে ‘বিশাল কিছু’ দাবি করে পুলিশের কাজে ‘ব্যাঘাত সৃষ্টি করতেন বলে জেলার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এমএলএম ব্যবসা খুলে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেন সাহেদ। এছাড়া চাকরির নামে অর্থ নেয়া, ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কো-অপারেটিভ থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অভিযোগে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই সাহেদই পরে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে প্রতিষ্ঠা করেন রিজেন্ট গ্রুপ।  
 

পাঠকের মন্তব্য