পাপিয়াকাণ্ডের পর এবার সাহেদকাণ্ডে বিব্রত আওয়ামী লীগ

পাপিয়াকাণ্ডের পর এবার সাহেদকাণ্ডে বিব্রত আওয়ামী লীগ

পাপিয়াকাণ্ডের পর এবার সাহেদকাণ্ডে বিব্রত আওয়ামী লীগ

দেশে এখন আলোচিত নাম- সাহেদ। ক'দিন আগেও আওয়ামী লীগের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়াতেন দুর্দন্ডপ্রতাপে। করোনাকালে চিকিৎসাসেবা নিয়েও পেতেছিলেন প্রতারণার ফাঁদ। সেসব খবর বের হওয়ার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তার ছবি। তবে অপরাধ ধরা পড়ার পর তার দায় নিচ্ছে না কেউ। উল্টো পুরো ঘটনায় বিব্রত আওয়ামী লীগ।

নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে উপস্থিত হতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান দিতেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের। মন্ত্রী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তা কেউই বাদ নেই যার সাথে ছবি নেই সাহেদের। সরব উপস্থিতি ছিল টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে।  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্যদের তালিকা- যাতে রয়েছে মোহাম্মদ শাহেদের নাম। বেশ কিছু ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদের সঙ্গেও। 

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ বলেন, এই কমিটি এখনো আওয়ামীলীগ সভাপতি অনুমোদন দেননি। উনি প্রত্যেক সদস্যের নাম চেক করেছেন, সেখানে সাহেদের নাম ছিল না। তখন উনি আমাকে বলেছেন আমার স্বাক্ষর লাগবে না, তুমি এদের নিয়ে কাজ শুরু করো।

তিনি আরও বলেন, উপকমিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হুট করেই হাজির হতেন সাহেদ। আমার প্রথম থেকেই তার উপর সন্দেহ ছিল। আমি তাকে কোন চিঠিও দি নাই আমাদের সাথে কাজ করার জন্য।

অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।  আর ছবি তুলে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া ছিল সাহেদের প্রতারণার মূল কৌশল।  আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কেউ কেউ বলছেন সাহেদ আওয়ামী লীগের নেতা।কিন্তু আমি শুনেছি সে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার সাথে আব্দুল্লা আল নোমানশ অনেকের সঙ্গে সখ্যতা ছিল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের  বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক যত ক্ষমতার অধিকারী হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। শেখ হাসিনার সরকার এসব অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা হবে। 

ক্যাসিনোকাণ্ডের পর যুবমহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়াকাণ্ড তারপর সাহেদ। দলের নেতারা বলছেন, একের পর এক এসব ঘটনায় বিব্রত তারা।

পাঠকের মন্তব্য