নন্দীগ্রামে মহাসড়কে অবাধে থ্রিহুইলার, সিএনজি-অটোভ্যানে চাঁদাবাজি

নন্দীগ্রামে মহাসড়কে অবাধে থ্রিহুইলার, সিএনজি-অটোভ্যানে চাঁদাবাজি

নন্দীগ্রামে মহাসড়কে অবাধে থ্রিহুইলার, সিএনজি-অটোভ্যানে চাঁদাবাজি

বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে দেদারছে চলাচল করছে সবধরণের থ্রিহুইলার। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউই। গতকাল বুধবার দুপুরে বগুড়ার নন্দীগ্রামে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কে এমন চিত্র দেখা গেছে। মহাসড়কের পাশে হাইওয়ে থানার সামনে দিয়েই চলাচল করছে শতশত থ্রিহুইলার। তবে পুলিশ বলছে, মহাসড়কে থ্রিহুইলার প্রশ্নে আপস নেই।

অন্যদিকে সিএনজি ও অটোচালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংর্ঘষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই চাঁদাবাজির টাকায় বাড়ছে মাদকসেবীদের সংখ্যা। ফলে অবৈধ চাঁদা উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, সিএনজি ও অটোচালকদের কাছ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সেই টাকা চলে যাচ্ছে মাদকসেবীদের পকেটে। সিএনজি মালিক সমিতি ও অটোভ্যান সমিতির নামে প্রতিদিন সকাল থেকে চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাও মানছে না কেউই। কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার গেটের পাশেই মহাসড়কে সিএনজি স্ট্যান্ড। নন্দীগ্রাম থেকে বগুড়ার শাকপালা পর্যন্ত মহাসড়কে সিএনজিসহ সবগুলো থ্রিহুইলার চলাচল করছে দেদারছে। হাইওয়ে পুলিশের লোক দেখানো অভিযান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পাশেই তিনটি সিএনজি স্ট্যান্ড ও তিনটি অটোভ্যান স্ট্যান্ড, রণবাঘা বাজারে দুটি করে সিএনজি-অটোভ্যান স্ট্যান্ড ও কুন্দারহাট বাজারে দুটি স্ট্যান্ড। হাইওয়ে থানাকে ম্যানেজ করে সবগুলো থ্রিহুইলার মহাসড়কেই চলাচল করে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন চালক। এছাড়া বিশেষ তদবিরে আটককৃত থ্রিহুইলার ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 

প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, উপজেলায় দুই শতাধিক সিএনজি রয়েছে। আগে প্রতিদিন সিএনজি সমিতির নামে ৩৫ টাকা করে নিয়েছে, এখন ২০ টাকা নেয়। প্রত্যেক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার এসব স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতিপুর্বেও নানা ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এখন আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে যে কোনো সময় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রন নিয়ে খুন-জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সিএনজি-অটোরিক্সা চালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তবে এসব চাঁদাবাজদের কোনো রেজিষ্ট্রাড সংগঠন নেই। পেশিশক্তি এবং ক্ষমতার দাপট দিয়েই লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে। 

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সিএনজি চালক জানান, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী থ্রিহুইলার চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন চাঁদা নেওয়া হয়। সমিতির সাইনবোর্ড লাগিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা দাপট দেখায়। চাঁদার টাকা চলে যায় মাদকসেবীদের পকেটে। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সমিতির আড়ালে মাদকসেবীদের অবস্থান সক্রিয় করছে। সিএনজি মালিক ও চালকরা শুধু দেয়, বিনিময়ে মহাসড়কে শান্তিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ মেলে। তবে চাঁদার টাকা মাদকসেবীদের পেছনে খরচ না করে যদি শ্রমিকদের উন্নয়নের কথা ভাবত, তাহলে আমরা উপকৃত হতাম। এদিকে পৌর শহর সহ উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন বাজারে রয়েছে কথিত অটোভ্যান সমিতি। প্রতিদিন চাঁদা ও জমার টাকা দেওয়ার পর অর্জিত আয় দিয়ে চালকদের সংসার চালানো ভীষণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিষয়টির প্রতিকারের সম্ভাবনা খুঁজছেন থ্রিহুইলার মালিক ও চালকরা। 

সিএনজি মালিক সমিতির ক্যাশিয়ার মাহাবুর রহমান বলেন, আগে ৩৫ টাকা করে নেওয়া হতো, এখন প্রত্যেক সিএনজি থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এটা মাষ্টারদের খরচ। 

মহাসড়কে অবাধে থ্রিহুলার চলাচল করছে এমন প্রশ্ন করা হলে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে থ্রিহুইলার চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। যেসব চলছে, সেগুলো পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে।

পাঠকের মন্তব্য