তৃতীয়মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের ফাঁসি চাইলেন রনি

তৃতীয়মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের ফাঁসি চাইলেন রনি

তৃতীয়মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের ফাঁসি চাইলেন রনি

করোনা শাহেদ নামে হাল আমলে যে লোকটির চৌদ্দ গুষ্ঠি সবাই উদ্ধার করার চেষ্টা করছে আমি তাকে কোন দিন সামনাসামনি দেখিনি - তার কোন টকশোও দেখিনি - এমনকি তার নামটাও জানতামনা যেমনটি জানতাম না জিকে সামিম সম্পর্কে ! তবে টিভির চ্যানেল ঘুরাতে গিয়ে মাঝে মধ্যে শাহেদের ছবি দেখেছি। কিন্তু তাকে নিয়ে মনের মধ্যে কোন প্রশ্ন আসেনি কারন দেশে এতো বড় বড় ঘটনা অহরহ ঘটছে এবং টিভিতে এতোসব আজব জিনিস দেখছি সেগুলোর তুলনায় শাহেদের মোটাসোটা হাবাগোবা চেহারার মেয়েলি গলার পুতু পুতু ধ্বনির নির্বোধ কথাবার্তা শোনার প্রয়োজন মনে করিনি।

করোনা নিয়ে শাহেদের যে অপকর্ম তার চেয়েও অনেক বড় এবং মারাত্মক কেলেঙ্কারি ইতিমধ্যে অনেক গুলো ঘটেছে। কিন্তু আমাদের ভীরু মন এবং কাপুরুষের মতো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য আমরা সেইসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ তো দুরের কথা ওইসব ঘটনার হোতাদের একটা পশম নিয়ে আপন মনে দুই চারটি শব্দ উচ্চারণ করতে ভয় পেয়েছি এই আশঙ্কায় যে - যদি আমাদের নিঃশ্বাস বা প্রশ্বাস ওইসব লোকদের নিকট গিয়ে আমাদের মনের কথা গুলো প্রকাশ করে দেয় !

শাহেদকে নিয়ে ইদানীং যা হচ্ছে তাতে আবারো প্রমাণ হচ্ছে যে আমরা কতোটা ভীতু ! শাহেদ সরকারি দলের একজন হাইব্রিড পাণ্ডা ! সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গাতে তার ছিল অবাধ যাতায়াত এবং অনেকের সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্ক। আমরা সেইগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে টু শব্দটি করতে পারছিনা। অন্যদিকে শাহেদ কবে অঞ্জন রায় নামক এখন উপস্থাপকের সঙ্গে চা নাস্তা খেল, মোজাম্মেল বাবু নামক একজন টিভি মালিকের সঙ্গে ছবি তুললো বা সাংবাদিক নেতা বুলবুল, সাবান মাহমুদ প্রমুখের সঙ্গে তার কি সম্পর্ক ছিল তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে বের করে ফেলেছি যে - কতিপয় সাংবাদিকই শাহেদকে পয়দা করেছে এবং তার সকল অপকর্মের জন্য তারাই দায়ী !

শাহেদের সকল কুকর্মের জন্য যারা কতিপয় সাংবাদিক এবং টকশোর উপস্থাপককে দায়ী করেন তাদের আক্রমণের প্রধানতম বাক্তিটি হলেন চ্যানেল আই তৃতীয়মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমান ! তাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় -কেউ জিল্লুরের টকশোতে অংশগ্রহণ করতে পারলেই অন্য সব টিভির দরজা তার জন্য খুলে যায় এবং তৃতীয়মাত্রাতে অতিথি হতে পারলে সে বাংলাদেশের সব অপকর্ম করার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলে। তাদের আরো অভিযোগ - জিল্লুর দেশে দুর্নীতির আবাদ করার জন্য এইসব করে এবং একই সঙ্গে ওইসব দুর্নীতির একটা বিরাট অংশ তার পকেটে যায়। অভিযোগ কারীদের মধ্যে যারা ছোট মনের অধিকারী তাদের সন্দেহ - জিল্লুর বিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে অতিথি নির্বাচন করে !

উপরোক্ত অভিযোগ নিয়ে যারা হইচই করছেন- তাদের দাবি- জিল্লুর সহ অন্য টকশোর উপস্থাপক যারা শাহেদকে অতিথি করেছে তাদের ফাঁসি হউক - বা ক্রস ফায়ার হউক। আপনি উল্লেখিত দাবি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে টকশো এবং জিল্লুর সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা শুনে নিতে পারেন -

আমি গত বারো বছর ধরে নিয়মিত টকশো করছি যার সংখ্যা ইতিমধ্যে দেড় হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। টক শো ছাড়াও আমি বাংলাদেশ প্রতিদিন, যুগান্তর, নয়াদিগন্ত, আমাদের সময়ের মতো জাতীয় দৈনিক পত্রিকাতে গত বারো বছর ধরে যে উপ সম্পাদকীয় লিখেছি তা একত্র করলে কমপক্ষে পঁচিশ লক্ষ শব্দ হবে যার সবগুলোই বই আকারে প্রকাশ পেয়েছে। এর বাইরে, ৮০র দশকে সাংবাদিক হিসাবে আমার কর্ম জীবনের কারনে আমি মিডিয়া সম্পর্কে যা জানি তা অন্যান্য রাজনীতিবিদ বা অন্য পেশার লোকদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

আমি অস্বীকার করবো না যে কিছু কিছু উপস্থাপক রয়েছে যারা হাজার খানেক টাকার বিনিময়ে অতিথিদেরকে নির্বাচন করে এবং কিছু উপস্থাপক এমনও আছে যারা এইসব অপকর্মের জন্য নিজের সহকর্মীদের হাতে মার পর্যন্ত খেয়েছে। আবার অন্য দিকে, এমন উপস্থাপকও রয়েছেন যাদেরকে অনুনয় বিনয় করে ফোন করার সাহস কোন মন্ত্রী এমপি পর্যন্ত রাখেননা এবং এই শ্রেণির উপস্থাপকদের মধ্যে জিল্লুর রহমান অবশ্যই প্রধানতম।

জিল্লুর রহমানকে আমি চিনি তা প্রায় ত্রিশ বছর হতে চলল। একটা সময়ে আমরা একসঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। ত্রিশ বছর আগে জিল্লুর রহমানের মধ্যে যে বাক্তিত্তবোধ, আত্মমর্যাদার গুণাবলি, নির্লোভ প্রকৃতি, মেধা এবং রুচিবোধ দেখেছি তা সময়ের বিবর্তনে আরো উৎকর্ষতা লাভ করেছে। আমি তাকে কোনদিন কোন সরকারি অফিস যেতে দেখিনি -কোন ক্ষমতাবান লোক বলেনি যে জিল্লুর কোন কালে কোন তদবির করেছে কিংবা কিছু চেয়েছে। অধিকন্ত অনেক প্রভাবশালী লোকজন চাইতেন -জিল্লুর যদি তাদেরকে ফোন করতো বা তাদের বাসায় একটু বেড়াতে আসতো বা জিল্লুরের বাসায় দাওয়াত দিত তবে তারা সম্মানিত বোধ করতেন।

জিল্লুর রহমানের বাক্তিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার গ্রহণ যোগ্যটা কোন পর্যায়ের তা একটি উদহরন দিলেই বুঝতে পারবেন -২০১০ সালের দিকের ঘটনা। আমি একদিন সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে কোন পূর্বানুমতি না নিয়েই তার খাস কামরায় ঢুকে পড়লাম। সেখানে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী একান্তে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কথা বলছেন। আমি খানিকটা বিব্রত হলাম এবং রুম থেকে বের হয়ে যেতে চাইলাম ! প্রধান মন্ত্রী হাসি মুখে আমাকে বসতে বললেন এবং আমি খুব দ্রত আমার কথা বলে বের হয়ে এলাম। পরে জিল্লুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করে জেনেছিলাম যে প্রধান মন্ত্রী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কিছু বিষয়ে কথা বলার জন্য। সেদিন প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে তার কি কথা হয়েছিল তা যেমন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করিনি -তিনিও নিজের দাম বাড়ানোর জন্য আগ বাড়িয়ে কিছু বলেননি !

কাজেই আমি যে জিল্লুর রহমানকে চিনি সেই জিল্লুর রহমান টাকার বিনিময়ে শাহেদ কে তার অনুষ্ঠানে অতিথি করবে এটা আমার পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব নয় । তবে আমাদের দেশের কিংবদন্তির তদন্ত কমিটি যদি তাকে দায়ী করে হুকুম জারী করে তবে আমি হয়তো অন্যান্য কাপুরুষের মতো জিল্লুরকে রহমানকে ভুলে যাব, ভুলে যাব তার সম্পর্কে যা জানি এবং তাকে যেমনটি নিজ চোখে দেখেছি ! এবং আমি তখন আর কিছুই শুনতে চাইবোনা - শুধু তার ফাঁসি চাইবো !

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Golam Maula Rony

পাঠকের মন্তব্য