রাণীশংকৈলে খড়ের বাজারে আগুন বিপাকে খামারিসহ প্রান্তিক কৃষক

রাণীশংকৈলে খড়ের বাজারে আগুন বিপাকে খামারিসহ প্রান্তিক কৃষক

রাণীশংকৈলে খড়ের বাজারে আগুন বিপাকে খামারিসহ প্রান্তিক কৃষক

গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়ের(বিচুলি) দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে জেলায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য খড়ের। দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলার খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। আর এতে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এই খড়। একদিকে গবাদিপশুর(গরু, মহিষ) নতুন রোগ “লাম্পি স্কিন” অন্য দিকে গো-খাদ্য খড়ের চড়া দাম এ যেন খড়ের বাজারে আগুন লাগার মতো। ফলে মাথায় হাত পড়েছে জেলার গরু খামারি সহ প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে। 

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায় প্রতি পণ(২০ গন্ডা) খড় বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৭০ টাকায়।

সরেজমিনে জেলার রানীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে কয়েকজন খুচরা খড় বিক্রেতার  সাথে কথা বলে খড়ের এমন দাম জানা গেছে।  খুচরা বিক্রেতারা জানান , আমরা গ্রাম থেকে ৪৭০টাকা দরে প্রতি পণ খড় ক্রয় করছি এবং পরিবহনে খরচ হয় ২০-৩০টাকা । তাই আমরা প্রতি পণ(২০ গন্ডা) ৫৫০ টাকায় বিক্রি করছি। 

বেশ কয়েকজন বিক্রেতাও এমন কথা জানায়।

রাণীশংকৈলের আনিকা ডেইরী ফার্মের স্বত্তাধিকারী মো: আনোয়ার জানান, খড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় তিনগুন । একদিকে দুধের দাম কম আর অন্যদিকে গো-খাদ্য খড়ের দাম বেশি।এতে আমাদের খামারিদের  টিকে থাকায় কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, কুড়া-ভুসির পাশাপাশি ধানের খড় গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভুসির সঙ্গে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামার অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারা বছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছেই। 

শুধু খামারিরা নন স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য দু-একটা গাভি বাড়িতে লালন-পালন যারা করেন তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত  খড়ের বাজার। 

উপজেলার এক দিন মজুর জানান,আমরা দিন মজুর। যা আয় রোজকার হয় এতে কোনোমতে আমাদের সংসার চলে।বাড়িতে দুধের চাহিদা এবং বাড়তি আয়ের জন্য দু- একটা গরু পালনে বর্তমানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খড়। বাজারে পাঁচ গন্ডা খড় কিনতে হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। এভাবে যদি খড়ের দাম বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের গরু পোষা বাদ দিয়ে দিতে হবে।

জেলার হরিপুর উপজেলার গাভি পালনকারী আবু সালেহ জানান, একটি গরুর সারা বছরের খাবার হিসেবে খড়ের বিকল্প নেই। আবাদি জমিতে ঘাস নেই বললেও চলে। বর্তমানে আবাদি জমির পরিমান কমে গেছে। তাই খোলা মাঠে গো চারণের কোন স্থান নেই। গরুর তিনবেলা নিয়ম করে অন্যান্য খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি খড় দিতে হয়। এভাবে যদি খড়ের বাজার বাড়তে থাকে তাহলে আমরা সাধারণ গরু পালনকারীরা কিভাবে চলব।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ  খামারিসহ কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন যদি খামারিগণ এবং কৃষকরা বোরো ধানের খড় সংগ্রহ করে রাখতে পারে তাহলে গো-খাদ্যে এর অভাব হবেনা। তিনি আরোও বলেন, খড় সংগ্রহের পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের চাষ করতে পারেন।

উপজেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা মো: রায়হান আলী জানান,খামারি ও কৃষকদের খড় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। যেহেতু খড়ের পুষ্টিগুণ মান কম সেহেতু বেশি পরিমানে উন্নত জাতের ঘাস চাষ বাড়াতে হবে।

 

পাঠকের মন্তব্য