শোকাবহ আগষ্ট মাস ও কিছু মনের কথা

শোকাবহ আগষ্ট মাস ও কিছু মনের কথা

শোকাবহ আগষ্ট মাস ও কিছু মনের কথা

ইকবাল আহমেদ লিটন : শোকাবহ আগষ্ট মাস শুরু হলো, বাঙালি জাতি আর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে শোকাবহ দিন ১৫ আগষ্ট তথা জাতীয় শোক দিবস ঘনিয়ে আসছে। গত বছর জাতীয় শোক দিবসে আমার সকল নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে আয়ারল্যান্ডের এক রেস্টুরেন্টের সামনে হাজির হয়েছিলাম। সেদিন ডাবলিনে স্বরনাতীতকালের সর্ববৃহৎ নেতা –কর্মীদের সমাবেস ও দোয়া মাহফিল অবশ্য প্রতিবছর এমন দিবস নিয়ে আয়োজন করে থাকি সকলে। জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমগ্র বাঙালি ও আয়ারল্যান্ডে অনেক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে উক্ত দোয়া মাহফিলে হাজির হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের নিগৃত নেতাকর্মী সহ আপামর আয়ারল্যান্ডের বাঙালি দ্বীপবাসী -যেন ইংরেজদের/আইরিশদের সামনে একখন্ড বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে আমার সক্রিয় অংশগ্রহনে নেতা কর্মীরা যা কিছু ত্যাগ করেছে শুরু থেকে আজ অবধি, তা লিখে শেষ করা যাবেনা, সকল অবদান তাঁদের, আমি স্বল্প সময়ে মানুষের যে মমতা পেয়েছি, আলোচনায় স্থান পেয়েছি তাতেও নেতা কর্মীদের অতুলনীয় অবদান রয়েছে। একথা আমি কৃতজ্ঞচিত্তে সারা জীবন স্মরন রাখবো।

নেতা কর্মীরা অবহেলিত নির্যাতিত হলেও মানুষের কল্যানে তারা কাজ করে চলেছেন বহুদিন ধরে আর আমি সাথে যোগ হয়ে প্রেরণা যুগিয়েছি মাত্র আর যতদিন বেঁচে আছি ততদিন ভালবাসা থেকে যতটা সম্ভব অন্তর দিয়ে চেষ্টা করবো কেননা আমার আর আমার প্রিয় নেতা কর্মীদের রক্তের গ্রুপ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। আমার আয়ারল্যান্ড রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডে যে বিশাল চাপ সৃষ্টিকারী দল সংগঠিত হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে তা সারা ইউরোপের মধ্যে এক বিরল ঘটনা তা সকলে জানেন ও বোঝেন। অন্যদলের নেতা এমনকি আমাদের দলের নাম ভাঙিয়ে দলের কতিপয় নেতারা দেশের সূর্য্য সন্তানদের ও প্রকৃত মুজিব সেনাদের প্রতি অবহেলা অত্যাচার কখনও কখনও হিংস্র আচরনের সীমা লঙ্ঘন করেছেন।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা চারশতাধিক মামলার হাজার হাজার নেতা কর্মীর মামলা মোকাদ্দমায় আমাদের গ্রুপের সহায়তায় স্বামী তার সাংসারিক কাজে, ছাত্র তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বাবা তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পেরেছে তা বিরাট রাজনৈতিক কর্মকান্ড হিসাবে সমাদৃত হয়েছে দেখে সন্তুষ্টি ও গর্ববোধ করি। ব্যক্তিত্ব আর সন্মান হারানো রাজনীতির ক্ষেত্রে কারোই কাম্য নয়। রাজনৈতিকদের সন্মানিত থাকতে পারা একটা বিরাট চ্যালেন্জ। অসতর্কতায় কিংবা অবহেলায় কোন কারনে সন্মান ক্ষয় হয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যাবেনা। এ সমাজে তা আলোচনায় থেকে যাবে সবসময়। হোক তা নিজের সন্মান কিংবা সহযোদ্ধা অন্য নেতা কর্মীর সন্মান।

নেতা কর্মীদের অবদান সবসময় বেশী গুরুত্ব বহন করে তবে সবসময় মনে রাখা দরকার –নিজের অবদান বড়ভাবে উল্লেখ করে নিজেকে ছোট না করবার জন্য, রাজনীতিতে সাধারনের আলোচনায় থেকে প্রসার পাওয়া গুরুত্ববহন করে। জনসাধারনের আলোচনায় থাকতে হলে মনে প্রানে বিনয়ী থেকে ধৈর্য্য সহকারে মাঠের কাজ এগিয়ে নিতে হয়। আবেগপ্রসুত হওয়া, বিদ্বেষ ছড়ানো, হিংসা মনে আসা যেকোন ভাবেই প্রতিহত করতে হবে নিজ যোগ্যতায়। হয়তোবা কখনও ভুল হবে, ভুল থেকেই শিক্ষা নিতে হবে।

পারিবারিক শিক্ষা, অর্জিত সামাজিক অবস্থানে নোংরা কথা বলা কিংবা শুনা কিংবা সহ্য করা আমার ধাঁচে নেই, অথচ সকল কিছু আমাদের সপক্ষে থাকলেও ক্ষনেক্ষনে বিভিন্ন মহলের নোংরামি বিরক্তির উদ্রেক করে। প্রতিযোগিতায় রাজনীতির অঙ্গনে স্থান পাওয়া সহজসাধ্য নয়। তবে হারিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই আয়ারল্যান্ডে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তি সর্বাধিক ধিকৃত ব্যক্তিতে পরিনত হয়েছে অতি অল্প সময়ে, অথচ দশকের পর দশক লেগেছে তার আয়ারল্যান্ড বাংলা বাসীর মনে জায়গা করে নিতে। চাটুকার বেষ্টিত নেতা জনগনের মন থেকে সরে যেতে সময় লাগেনা, কষ্ট পাওয়া কর্মী সাধারনের নেতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশের ভাষা তার প্রতি অভিশাপ দেয়ার মত কানে লাগে। এইসব কিছু থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নিয়ে সতর্ক কর্মসুচী বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে দলের নিগৃহীত কর্মী সমর্থক এবং আয়ারল্যান্ডের বাংলা তথা সমগ্র বাঙালি জাতির কল্যানে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আসুন ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে সবাই দলের জন্য কাজ করি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অচিরেই দেখতে পাবে বিশ্ব ইনশাআল্লাহ।। 

লেখক : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি, আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন আয়ারল্যান্ড শাখার সভাপতি 

পাঠকের মন্তব্য