ভুরুঙ্গামারীতে গ্রাম আদালতের রায় অমান্য করে জমি জবর দখল

ভুক্তভোগী এরশাদ আলী

ভুক্তভোগী এরশাদ আলী

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গ্রাম আদালতের রায় অমান্য করে জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিকবার শালিস বৈঠক করেও জমি উদ্ধার করতে পারেনি ভুক্তভোগী। 

জানা গেছে, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা মৌজার ৬৭ শতাংশ জমি নিয়ে এরশাদ আলী গং ও বাহার আলী গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারবাহিকতায় এরশাদ আলী গং ৬৭ শতাংশ জমি দাবী করে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে ওই একই গ্রামের প্রতিপক্ষ ওসমান আলী, মোকাদ্দেছ আলী, আনোয়ার হোসেন, ফজর আলী, নজরুল ইসলাম ও বাহার আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। যার এস এ ৭৫১ ও ৭৪৭ খতিয়ানের ৬৭ শতাংশ জমি এস এ ১৪৯৫ দাগে ২২১ শং মধ্যে ৪৪ এবং এস এ ১৫৭৯ দাগে ১১৫ শং মধ্যে ২৩শং সহ মোট ৬৭ শতাংশ জমি খরিদ ও এস এ মুলে ওয়ারীস সুত্রে দাবী করেন। দলিল নং ৫০৭৭, তাং- ১১-১১-২০১২। 

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে একাধিকবার আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করলে বিবাদীপক্ষ কর্ণপাত না করায়  গত ১০ জুলাই ২০২০ পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকারের সভাপতিত্বে একটি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে যাবতীয় দলালাদি পর্যালোচনা করে বিবাদী পক্ষ জমি খরিদ করার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গ্রাম আদালত এরশাদ আলী গং এর পক্ষে রায় প্রদান করেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষ গ্রাম আদালতের রায়কে প্রত্যাখান করে উক্ত ৬৭ শতাংশ জমি জোর পূর্বক ভোগ দখল করে আসছে। গ্রাম আদালতের রায়ের ১ মাস অতিবাহিত হলেও উক্ত জমি উদ্ধার করতে পারেনি ভুক্তভোগী। 

ভুক্তভোগী এরশাদ আলী জানান, আমার বৈধ কাগজপত্র থাকায় এবং গ্রাম আদালত আমার পক্ষে রায় দেওয়ার পরেও বিবাদীগন প্রভাবশালী হওয়ায় আমি উক্ত জমি উদ্ধার করতে পারিনি। এ ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজিউর রহমান জানান, উক্ত শালিসী বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। কাগজপত্রের ভিত্তিতে এরশাদ আলী গং উক্ত জমির হকদার। আমি বিবাদীপক্ষকে উক্ত জমি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও শালিশী বোর্ডের সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক সরকার জানান, বিবাদীপক্ষকে একাধিকবার নোটিশ করা হয়েছিল। শালিসী বোর্ড যাবতীয় কাগজপত্র দেখে এরশাদ আলী গং উক্ত জমির বৈধ হকদার হিসেবে রায় প্রদান করেছে। 

পাঠকের মন্তব্য