বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে পানি কমলেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে পানি কমলেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে পানি কমলেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

দেশের বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে অনেক স্থানে পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। ঠান্ডা-কাশি, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা, নিউমেনিয়া, চক্ষু ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে। শিশুরাই এতে বেশী আক্রান্ত হচ্ছেন।

বন্যায় এখনো প্রায় সাড়ে ৯ লাখ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছে। সরকারর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০ জুন থেকে গতকাল ১০ আগষ্ট পর্যন্ত ৩৬ হাজার ২২৩ জন বন্যাজনিত নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ১৯৩ জন।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩৯ জন, আর মারা গেছেন ৪ জন। বন্যাজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন টাঙ্গাইলে ৩৪ জন। এরপরেই রয়েছে জামালপুরে ২৯ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন মাদারীপুরে ১৩ হাজার ১১৫ জন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনির আহমেদ খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, বন্যার আগে গড়ে প্রতিদিন ১০–১৫ জন রোগী আসত পেট খারাপ আর চর্মরোগ নিয়ে। এখন ৭০–৮০ জন আসছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার এই সময়টাতে যাঁরা বাড়িঘরে ফিরছেন, তাঁদের ঘরের মেঝে ও অন্যান্য সামগ্রী ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ সময় পানিবাহিত রোগ যাতে না হয়, সে জন্য অবশ্যই পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধকরণ বড়ি দিয়ে পান করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বন্যায় গত ২৭ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪১ জন মারা গেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারি ত্রাণ তৎপরতা ছাড়াও, স্থানীয় প্রশাসন থেকে বন্যদুর্গতদের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট ও চিকিৎসা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের সবকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত কমছে। পানি হ্রাসের ফলে  ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নিম্নাঞ্চলসহ নাটোর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি এবং ফরিদপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ ঘন্টায় উন্নতি হতে পারে।

আজ বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানিসমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ১০১টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে  আজ সকালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী,  ৮৬টি পয়েন্টের পানি হ্রাস পাচ্ছে। কেবল  ৮টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে দেখা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য