বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনিকে ফেরাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনিকে ফেরাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনিকে ফেরাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা

 

আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেন বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশে কলঙ্কময় অধ্যায় তৈরি করে তারা।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে হত্যামামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ খুনি। তারা সবাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ওইসব খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এজন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে সারা বিশ্বে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। রেড নোটিস পেয়ে বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে থাকা খুনি-অপরাধীদের সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। কজন খুনির অবস্থান শনাক্ত হলেও আইনি জটিলতায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হচ্ছে।

তবে হাল ছাড়ছে না সরকার। মুজিববর্ষেই বঙ্গবন্ধুর এক খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

আমরা আশা করছি মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আরেকজনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করতে পারবো। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের একজনকে সমপ্রতি ফাঁসি দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আশা করছি আমরা সফল হবো। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা হওয়ার পর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বঙ্গবন্ধুর তদানীন্তন এপিএস মহিতুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। সিআইডির এএসপি আবদুল কাহার আকন্দ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট (নং-৭) দাখিল করেন। চার্জশিটে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে ১১ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন জজ কোর্ট থেকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ে ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর উচ্চ আদালত থেকে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি কার্যকর) করা হয়। ২০০১ সালে এক আসামি জিম্বাবুয়েতে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা যায়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ এপ্রিল রেড নোটিসধারী আসামি লে. আবদুল মাজেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর বেশকিছু খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে অনেকেই। এসব খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপনে অবস্থান করছে। বিদেশে পলাতক আসামিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যামামলার আসামি ছাড়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা মামলার আসামি ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনি এসএইচএমবি নূর চৌধুরী বিদেশে পলাতক রয়েছে।

ইন্টারপোলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করে তার সম্ভাব্য অবস্থান কানাডা বলে জানিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তার জন্য রেড নোটিস জারি করা হয়। এ রেড নোটিসের মেয়াদ ৫ বছর। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা নানাভাবে কাজ করছে।

বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরীর সম্ভাব্য অবস্থান আমেরিকায়। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার রেড নোটিসের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও তা আগামী ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি পলাতক লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছে।

তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও সে পাকিস্তান বা লিবিয়ায় অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়। খুনি লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদের অবস্থান শনাক্ত না হলেও তারও সম্ভাব্য অবস্থান লিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে বলে জানা গেছে। ২০০৯ ও ২০১৯ সালে ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তবে সম্ভাব্য অবস্থান ভারত বা পাকিস্তান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে ভারতের পুলিশের ইন্টারপোল শাখায় যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনো ইতিবাচক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে রেড নোটিস জারি করা হয়। এ রেড নোটিসের মেয়াদও আগামী ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্য ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন, কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান।

আর লে. কর্নেল (অব.) আব্দুল আজিজ পাশার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হওয়ার আগেই গত ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান বলে জানা গেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ এপ্রিল রেড নোটিসধারী আসামি লে. আবদুল মাজেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য