১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়টা ছিলো দুর্বিষহ : শেখ পরশ  

১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়টা ছিলো দুর্বিষহ : শেখ পরশ  

১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়টা ছিলো দুর্বিষহ : শেখ পরশ  

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে হত্যা করা হয়, শেখ ফজলুল হক মনি ও তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে। কারণ, ঘাতকরা জানতো, বঙ্গবন্ধুকে আঘাত করতে হলে শেখ মনিকে আগে আঘাত করতে হবে। তবে সেই কালরাতের সাক্ষী হয়ে ঘটনাক্রমে বেঁচে যান তার দুই সন্তান পরশ ও তাপস। ৭৫ ও এর পরবর্তী অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিলো দুর্বিষহ।

ভোররাতে ছোট্ট দু'ভাইয়ের ঘুম ভাঙলো প্রচন্ড গুলির শব্দে।  বিছানায় তারা একা। ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘরের বাইরে বের হয়ে দেখলেন সিড়িঁর চৌকিতে পড়ে আছে বাবার লাশ, গলায় গুলির রক্তাক্ত দাগ। এর বেশি কিছু মনে নেই ১৫ই আগষ্ট কালরাতে বেঁচে যাওয়া শেখ মনির বড় সন্তান পরশের।

শেখ মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ জানান,'প্রচন্ড ভয় পাই আমরা। গোলাগুলি আর জানালা ভাঙ্গার আওয়াজে। তখন সিঁড়িঘরে বাবা-মার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পাই। বাবা কোন আওয়াজ করেননি। তবে মা একটু কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিলেন।'

১৫ই আগষ্টের কালরাতে ধানমণ্ডির ১৩/১ সড়কের শেখ ফজলুল হক মনির বাড়িতে প্রথম আক্রমণ হয়েছিল। ঘাতকেরা হত্যা করে।শেখ মনি ও তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আরজু মনিকে। ছোট্ট দু'সন্তান বেঁচে গেলেও ৭৫ পরবর্তী দিনগুলো তাদের জন্য ছিল দু:সহ। শেখ ফজলে শামস পরশ আরও বলেন,'পঁচাত্তরে আমাদের যে অভিজ্ঞতা সেটা একাত্তরের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি। একাত্তরে যুদ্ধের সময় যেমন নির্মমভাবে বাঙ্গালিদের অত্যাচার করা হয়েছিলো, পঁচাত্তরে আমাদের তিনটি পরিবার তেমনই যুদ্ধের সম্মুখিন হয়েছিল।'

শেখ মনির ছোট ছেলে শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, 'কোথাও ১৫ দিনের বেশি আমরা থাকতে পারিনি। খুনিরা আমাদেরকে আক্রমণ করেছে। আমাদেরকে খুঁজেছে। এভাবে কিছু দিন চলার পর আমরা ভারতে আশ্রয় নিই।'

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারে সন্তুষ্ট হলেও নেপথ্যের যড়ষন্ত্রকারীদের বিচার চান তারা। শেখ ফজলে শামস পরশ জানান,'কারা বঙ্গবন্ধুকে রিপ্লেস করার চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজলেই তো মাষ্টারমাইন্ডদের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবো।'

শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি রাশেদ চৌধুরী যিনি আমেরিকায় পলাতক অবস্থায় আছেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হোক।'

১৫ই আগস্টের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানো উচিত বলেও মনে করেন শহীদ শেখ মনির সন্তানেরা। 

পাঠকের মন্তব্য