ইরাকের কারবালা প্রান্তরে শহীদ হয়েছিলেন যাঁরা

ইরাকের কারবালা প্রান্তরে শহীদ হয়েছিলেন যাঁরা

ইরাকের কারবালা প্রান্তরে শহীদ হয়েছিলেন যাঁরা

৬১ হিজরির আশুরা বা ১০ মহররমে (১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ইরাকের কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (রা.)। তাঁর শাহাদাত ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা যুগ-যুগান্তরে মুমিনের হৃদয়ে একই সঙ্গে ব্যথার সমীরণ ও সত্যের পথে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিরস্মরণীয়। হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর শাহাদাত ছাড়াও ১০ মহররমে পৃথিবীর আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

কারবালা প্রান্তরে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন : কারবালার প্রান্তরে হুসাইন (রা.) ছাড়াও আরো অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। আলী (রা.)-এর সন্তানদের মধ্যে আবু বকর, মুহাম্মাদ, উসমান, জাফর ও আব্বাস; হুসাইন (রা.)-এর সন্তানদের মধ্যে আবু বকর, ওমর, উসমান, আলী আকবার ও আবদুল্লাহ; হাসান (রা.)-এর সন্তানদের মধ্যে আবু বকর, ওমর, আবদুল্লাহ ও কাসেম; আকিলের সন্তানদের মধ্যে জাফর, আবদুর রহমান ও আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন আকিল; আবদুল্লাহ ইবন জাফরের সন্তানদের মধ্যে আউন ও আবদুল্লাহ শহীদ হন।

কারবালার ঘটনায় করণীয় : আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, প্রতিটি মুসলিমের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র সাইয়েদ হুসাইন ইবন আলী (রা.)-এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়ার ঘটনায় ব্যথিত হওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতির নেতা। রাসুল (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ কন্যা ফাতেমার পুত্র হুসাইন (রা.) একজন বিজ্ঞ সাহাবি ছিলেন। হাসান ও হুসাইনের মর্যাদা রাসুল (সা.) থেকে একাধিক সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। অন্তর দিয়ে তাঁদের ভালোবাসা ঈমানের অন্যতম আলামত এবং নবী পরিবারের কোনো সদস্যকে ঘৃণা করা ও গালি দেয়া মুনাফেকির সুস্পষ্ট লক্ষণ। যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত কেবল তারাই হুসাইন (রা.) বা নবী পরিবারের পবিত্র সদস্যদের ঘৃণা করতে পারে।

পাঠকের মন্তব্য