আল্লাহ যেভাবে প্রিয় বান্দাদের স্মরণ করেন

আল্লাহ যেভাবে প্রিয় বান্দাদের স্মরণ করেন

আল্লাহ যেভাবে প্রিয় বান্দাদের স্মরণ করেন

আল্লাহকে যেভাবে বান্দারা স্মরণ করবে : আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের নানা সময় স্মরণ করেন। যেহেতু কোনো কিছুই আল্লাহর স্মরণ ও জ্ঞানের বাইরে নয়, তাই আল্লাহর স্মরণের অর্থ হলো দয়া ও অনুগ্রহ, পুরস্কার ও প্রতিদান, ক্ষোভ ও শাস্তি প্রদান করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫২)

সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) এই অর্থ এভাবে করেন, ‘আনুগত্যের মাধ্যমে তুমি আমাকে স্মরণ করো, আমি ক্ষমা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাকে স্মরণ করব।’ আর হাসান বসরি (রহ.) অর্থ করেন, ‘তোমার ওপর আমি যা যা আবশ্যক করেছি তা পালনের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করো, আমি পুরস্কার ও প্রতিদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তার মাধ্যমে তোমাকে স্মরণ করব।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

আল্লাহ যেভাবে বান্দাদের স্মরণ করেন : মানুষ নিজের ক্ষুদ্রত্ব দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে আর আল্লাহ তাঁর বড়ত্বের সঙ্গে মানুষকে স্মরণ করেন। আল্লাহ তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান অনুযায়ী স্মরণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর প্রতি তোমাদের স্মরণের চেয়ে, তোমাদের প্রতি তাঁর স্মরণ অনেক মহান। অতঃপর তিনি (সুরা আনকাবুতের ৪৫ নম্বর আয়াত) তিলাওয়াত করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণ সবচেয়ে বড়।’ (তাফসিরে তাবারি : ১৮/৪১৪)

তবে হাদিসে কুদসির বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, বান্দা আল্লাহকে যেভাবে স্মরণ করে, আল্লাহও বান্দাকে সেভাবে স্মরণ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! যদি তুমি আমাকে মনে মনে স্মরণ করো, তবে আমি তোমাকে মনে মনে স্মরণ করব। যদি তুমি আমাকে কোনো বৈঠকে স্মরণ করো তবে আমি তার চেয়ে উত্তম বৈঠকে তোমার স্মরণ করব।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ১১৩৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘...যখন কোনো ঘরে মানুষ একত্র হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং পরস্পর তা শিক্ষা লাভ করে, তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হয়, আল্লাহর রহমত তাদের আবৃত করে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তার কাছে উপস্থিতদের (ফেরেশতা) মধ্যে তাদের স্মরণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

আল্লাহর স্মরণে থাকে ভালোবাসা ও ক্ষোভ : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, জিবরাঈলকে ডেকে বলেন, আমি অমুককে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। ফলে জিবরাঈলও তাকে ভালোবাসে। অতঃপর আসমানের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়, নিশ্চয়ই অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো। আসমানের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। ফলে পৃথিবীতে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।

আল্লাহ যখন কোনো বান্দার ওপর ক্ষুব্ধ হন, তখন জিবরাঈলকে বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুককে ঘৃণা করি, সুতরাং তুমিও তাকে ঘৃণা করো। ফলে জিবরাঈল তাকে ঘৃণা করে। অতঃপর আসমানের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়, নিশ্চয়ই অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ঘৃণা করেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ঘৃণা করো। তারা তাকে ঘৃণা করে এবং সে পৃথিবীতে একজন ঘৃণিত মানুষে পরিণত হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৩৭)

পাঠকের মন্তব্য