কেমন আছেন পটুয়াখালীর চাল-চুলোহীন রোকেয়া

কেমন আছেন পটুয়াখালীর চাল-চুলোহীন রোকেয়া

কেমন আছেন পটুয়াখালীর চাল-চুলোহীন রোকেয়া

"আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি"

আসমানিদের দেখতে রসুলপুর নয় শুধু চলে আসুন পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে।

কবিতাটির দৃষ্টান্ত উদাহরণ রোকেয়া বেগম। পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন মাদারবুনিয়ক ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম। সন্তানদের মধ্যে একটি মেয়ে, বিবাহ দিয়েছে অনেক দূরে। স্বামীর যে জমিজমা যা পেয়েছে তার কোনো ভোগ দখলের মীমাংসা দেয়নি সৎ ছেলেরা। তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের বয়স্ক ভাতা হিসেবে কিছু টাকা পেতেন বর্তমানে তাও পাচ্ছেন না। কোন মতে একটুখানে জায়গায় দুটো টিন উপরে দিয়ে কাঁচা ঘরে বসবাস খুব কষ্টে বসবাস করছেন তিনি। অনেকে ঘরদেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু মেলেনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। অভিযোগ করে বলেন, তার জমানো কিছুটাকাও নিয়েছে ঘর দেওয়ার নামে কিন্তু এখন পর্যন্ত মেলেনি ঘর। গতকাল সরেজমিন খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় টিনের ঋুপড়ি খানা তলিয়ে গেছে ভারি বর্ষণের পানিতে। 

তিনি বলেন, ঘরে খাবার নেই, আলু আর পান্তাভাত খেয়েছি। অসুস্থ হয়েও ঔষধ খাওয়ার উপায় নেই, বৃষ্টি এলে বিছানা ভিজে যায়, ঝড় এলে ভয় করে তাই সারারাত কোরআন শরীফ পরে রাত কাটাই। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সারাজীবনে তাঁকে একটি রোজা, এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করতে দেখিনি। তিনি সপ্তাহে শুক্রবারও রোজা রাখেন, তার জন্য আমরা একটি ঘরের দাবি জানাই।

পাঠকের মন্তব্য