সৌদি আরব; রোহিঙ্গাদের কোথায় ঠেলে পাঠাতে চান ?

সৌদি আরব রোহিঙ্গাদের কোথায় ঠেলে পাঠাতে চান ?

সৌদি আরব রোহিঙ্গাদের কোথায় ঠেলে পাঠাতে চান ?

মোঃ গোলাম সারোয়ার : রোহিঙ্গাদের আদি ভূমি সৌদি আরব। সে রোহিঙ্গাদের তাঁরা কোথায় ঠেলে পাঠাতে চান ?

ইতিহাস হলো, সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে সৌদি আরব থেকে বহু মুসলিম স্বপরিবারে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দিকে পাড়ি দিতে থাকেন স্থল ও জলপথে। সে রকম এক কাফেলা জাহাজে করে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে বার্মা রাজার সাম্রাজ্যের কূলে জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে তীরের বাসিন্দাদের কাছে 'রহম' 'রহম' বলে ফরিয়াদ জানাতে থাকে।

তীরের বাসিন্দারা সেসব ভাষার কিছুই বুঝলোনা। তারা মনে করলো বিপদগ্রস্ত এসব মানুষ মনে হয় 'রহম জাতির' সন্তান। সে 'রহম' অপভ্রংশ হয়ে আরাকান ভাষায় হয়ে যায় 'রোসাং'। রোসাং থেকে রোসাইংগা তারপর রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা জাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসের এই হলো নির্যাস। তো, সৌদি আরব সে রোহিঙ্গাদের কোথায় ফেরত পাঠাতে চান ? 

সৌদি ইতিহাসবিদগণ সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর ইসলামের ইতিহাস পড়ুক। তাঁরা নিশ্চয় সত্যের আওয়াজ পাবেন। এই গেলো ইতিহাসের কথা। এবার আসি ভৌগোলিক ও জনমিতির কথায়।

সৌদি আরবের আয়তন ২১,৪৯,৬৯০ বর্গ কিলোমিটার যা আয়তনে বাংলাদেশের পনের গুণ বড়। দেশটিতে মানুষ আছেন মাত্র ৩ কোটি   ৪৮ লাখ। তার ভিতরে সৌদিয়ান হলেন আড়াই কোটি আর বাকী প্রায় এক কোটি হলো তাদের খেদমতদার অভিবাসী। 

বাংলাদেশ সৌদি আরব থেকে আয়তনে পনের ভাগের একভাগ, আর এদেশে লোকসংখ্যা আছে প্রায় আঠারো কোটি। এই অবস্থায়ও সৌদি আরব তাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে চায় ! সহজ অংক হলো, তামাম পৃথিবীর সব মুসলমানকে সৌদি আরবে আশ্রয় দিলেও দেশটিতে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাংলাদেশের সমান হবেনা।

হিসাব করে দেখলে দেখা যাবে, পৃথিবীর একশ সাতান্ন কোটি মুসলিমকে সৌদি আরবে জায়গা দিলে দেশটিতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মানুষ হয় ৭৩০ জন। আর আমাদের এখনই আছে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,২১৯ জন! এই অবস্থায়ও সামান্য কয়েক লাখ অসহায় মুসলিমের জায়গা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে হচ্ছে না! তাদেরকে বাংলাদেশেই পাঠাতে হবে! 

বাংলাদেশ বিহারী মুসলিমদেরকেও রাখতে হয়, আসামী মুসলিমদেরকেও রাখতে হয়, রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকেও রাখতে হয়। তবে কি আধুনিক বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের মূল মারকাজ ?

মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের কাছে এই প্রশ্ন আমরা রেখে গেলাম। আমরা তাঁদেরকে স্মরণ রাখতে বলি সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর ইতিহাস, খোলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস, উমাইয়া ও আব্বাসীয়া খেলাফতের ইতিহাস। আরো স্মরণ রাখতে বলি, মানুষ পৃথিবী পৃষ্ঠের সমস্ত মাটি নিয়ে কবরে যাবেনা। অনন্তের পথে মানু্ষের দরকার হবে মাত্র সাড়ে তিন হাত মাটি।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Md Golam Sarwar
লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট 

পাঠকের মন্তব্য