রামু কাউয়ারখোপে দোকানে চুরি ১৫ লক্ষ টাকা লুট

রামু কাউয়ারখোপে দোকানে চুরি ১৫ লক্ষ টাকা লুট

রামু কাউয়ারখোপে দোকানে চুরি ১৫ লক্ষ টাকা লুট

কক্সবাজার রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ স্টেশনে বিকাশ ও মোবাইলের দোকান চুরি,মালামাল সহ নগদ ১৫ লক্ষ টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় ওই বাজারের দুইজন বাজার প্রহরী সরাসরি জড়িত বলে মালিক পক্ষের দাবি।ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি কুচক্রমহল।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২.৩০ মিনিটের সময় রামু কাউয়ারখোপ স্টেশনের দক্ষিণ পাশে রামু-কাউয়াখোপ সিএনজি সার্ভিস পার্কিং এর পাশে সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হাসান আলীর পুত্র আব্দুর রহিমের বিকাশ ও মোবাইলের দোকানে ওই বাজারের দুই প্রহরী ১।নুরুল ইসলাম পিতা মৃত কালা মিয়া২।আব্দুল গফুর পিতা সিদ্দিক আহমদ তাদের সহযোগিতায় প্রায় ১০/১২ জন সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল নিয়ে দোকান চুরি করেছে এবং দোকান থেকে মালামাল সহ নগদ ১৫ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

দোকানের মালিক সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হাসান আলী বলেন, আমার দোকানের সামনে বসে সব সময় ওই দু'জন প্রহরী রাতে বাজার পাহারা দিতো, আমার দোকান চুরিতে তারা দুজন সরাসরি জড়িত এবং  তাদের সহযোগিতায় একটি সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল নিয়ে দোকানের উপরে উঠে টিন কেটে প্রবেশ করে দোকানের নগদ টাকাসহ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে।  

তিনি আরও বলেন, আমি দুইটা মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছি এবং তিন তিনবার নির্বাচিত সফল ইউপি সদস্য ছিলাম।দোকান চুরির বিষয় রামু থানা পুলিশকে অবগত করা হলে ঘটনাস্থলে রামু থানার  সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার ও এসআই সুব্রত এসে দোকান চুরির বিষয়ে দোকানের মালিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে তাদেরকে ২ দিনের মধ্যে ঘটনা সমাধান করার দায়িত্ব দিয়ে যান।কিন্তু ঘটনার ৮ দিন পরেও কোন সমাধান দিতে পারিনি স্হানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা ৮ দিন ধরে ঘটনা সমাধান করার কথা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। দোকান মালিক মোহাম্মদ হাসান আলী সঠিক বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দোকান মালিকের ছেলে ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন,কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সবাই আমার দোকান থেকে বিকাশ থেকে শুরু করে মোবাইলের যাবতীয় কাজ, মোবাইল ক্রয় করে।এবং আমার দোকানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ও দুইটি মসজিদের টাকা জমা থাকে।চোরের দল দোকান থেকে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের নামি-দামি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও নামি-দামি মালামালসহ সর্বমোট ১৫ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

এবিষয়ে কাউয়ারখোপ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির  সভাপতি নুরুল আজিম বলেন,দোকান চুরির বিষয়ে আমি সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ওই দুজন প্রহরীকে বিভিন্ন কৌশলে জিজ্ঞেস করেছি কিন্ত তারা কিছুতেই শিকার করেনা। আমার ধারণা ওই প্রহরী দুজনের সহযোগিতায় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন,আমি দোকান চুরির ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দোকানের টিন কেটে দোকানে প্রবেশ করে নগদ টাকা, মোবাইল ও নামি-দামি মালামাল নিয়ে গেছে।ঘটনার ৮দিন পরেও স্হানীয় ভাবে সমাধান না হওয়ায় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতায় ঘটনা সমাধান হবে বলে মনে করেন।   

এবিষয়ে কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমি ঘটনাটি স্হানীয় ভাবে পর্যবেক্ষণ করে মূল ঘটনা উদঘাটন করার চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞেসাবাদ করেছি কিন্ত কেউ শিকার না করায় কাউকে সনাক্ত করা যায়নি এবং ভুক্তভোগী দোকান মালিককে আমি সর্বস্তরের সহযোগিতা করে যাবো।  

পাঠকের মন্তব্য