করোনায় অনিশ্চয়তায় বেরোবির শিক্ষার্থীরা; অনলাইন ক্লাস দাবী 

করোনায় অনিশ্চয়তায় বেরোবির শিক্ষার্থীরা; অনলাইন ক্লাস দাবী 

করোনায় অনিশ্চয়তায় বেরোবির শিক্ষার্থীরা; অনলাইন ক্লাস দাবী 

আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল, বেরোবি প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের ব্যাপকতা আটকাতে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তায় ঝুঁকছে শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসছে শীতে আরও ভয়াবহ হতে পারে করোনার রুপ! অসুস্থ পৃথিবীতে কবে আসবে সুস্থতা-তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। একদিকে ভবিষ্যত জীবনের অনিশ্চয়তা অন্যদিকে  আগে থেকে চলে আসা সেশনজট আরও তীব্র হওয়ার আশংকায় এখনই অনলাইন ক্লাস চালুর দাবী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের। 

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কয়েক ধাপে বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করেছে সরকার। এদিকে বিভিন্ন গবেষকদের পূর্বাবাস সত্য হলে এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।করোনাকালে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালু থাকলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বেরোবির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসের যেমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি তেমনি করোনায় সৃষ্ট ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবে সে বিষয়েও কোন ভাবনা নেই। 

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেরোবির কয়েকটি বিভাগে সেশনজট ৬ মাস থেকে ২.৫ বছর পর্যন্ত রয়েছে। চার বছরের স্নাতক সম্পন্ন করতেই লেগে যাচ্ছে পাঁচ থেকে সাত বছর। এর মধ্যে মহামারী করোনায় যদি আরও এক বছরের জট বৃদ্ধি পায় তাহলে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করতেই চাকুরী জীবন সমাপ্ত হওয়ার উপক্রম হবে অনেক শিক্ষার্থীর। এমন অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস ও আলাদা আলাদা সময়ে বিশ্ববিদ্যলয়ে কেবল পরীক্ষা নেওয়ার জোড়ালো দাবী শিক্ষার্থীদের। 

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশী হতাশা কাজ করছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফাইনাল সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের করোনার পূর্বে  পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হয়েছিলো,আবার কারও কারও পরীক্ষা শুরু হলেও শেষ করা যায়নি,অনেক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ শেষ হলেও রিপোর্ট জমা দিতে পারছে না অথচ একই সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয়ে অনলাইনে  ইন্টার্নশীপ রিপোর্ট জমা নিয়ে ফলাফলও প্রকাশ করছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন আন্তরিক হলে অনলাইনে শুধু এক সেমিস্টার নয়, দুটি সেমিস্টারের ক্লাস শেষ করাও সম্ভব।  সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় খুলার পর এক সপ্তাহ ব্যবধানে দুটি সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। খুঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ এই পদ্ধতি অনুসরণ করে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অনলাইন ক্লাস শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো বৈষম্যে তৈরি করবে কী না জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বলেন সমস্যা থাকলে সমাধানও রয়েছে । এ ক্ষেত্রে তারা মনে করেন সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক প্রতিটি ক্লাস রেকর্ড করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক বা ইউটিউবে আপলোড করবেন। অথবা প্রতিটি ব্যাচের জন্য আলাদা গ্রুপ খুলার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেই গ্রুপে ক্লাস রেকর্ডিং থাকলে বিভিন্ন সমস্যার কারণে যে সকল শিক্ষার্থীরা সরাসরি অনলাইন ক্লাসে অংশ  নিতে পারবেনা,তারা পরবর্তিতে ক্লাস লেকচার থেকে সুবিধা নিতে পারবেন। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছেন। তারা আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা যদি ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা না পায় তাহলে দেশ পিছিয়ে পরবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হচ্ছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কোন ব্যবস্থা না করে এমফিল পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যা অনভিপ্রেত!

শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে জানতে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক ড.নুর আলম সিদ্দিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যদিও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে তথাপি শিক্ষার্থীদের  ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ এর কারণে যে সেশনজট দেখা দিয়েছে, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেটা কমিয়ে আনতে হবে ।তাছাড়া অনলাইন ক্লাসের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো,এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়ালেখায় ব্যস্থ রাখতে পারে,যা তাদের মানসিক অবসাদ থেকে মুক্ত রাখতে সহযোগীতা করবে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা মাথায় রেখে আমরা আগে থেকেই অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। সে লক্ষে প্রতিটি বিভাগে ডিজিটাল ক্লাস রুম চালু ও ক্যাম্পাসকে ওয়াইফাই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিলো।কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।যেখানে ভালো নেটওয়ার্ক নেই।ফলে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ অনলাইন ক্লাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে,যা শিক্ষাক্ষেত্রে বৈশম্য তৈরি  করবে।তাছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ে অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ইউজিসি থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।আমরা সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।

পাঠকের মন্তব্য