দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নতুন রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নতুন রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নতুন রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত বুধবার যা ছিল ৩ হাজার ৯৭৮ কোটি ডলার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, বিভিন্ন দেশে থেকে প্রবাসীদের পাঠানো প্রচুর পরিমাণ রেমিটেন্স, রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ আসার ফলে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য- সরকারের প্রণোদনা ঘোষণায় বৈধপথে প্রচুর পরিমাণ প্রবাসীদের রেমিটেন্স আসা, আমদানি ব্যয়ের চাপ কম থাকা, দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৯.৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে রেমিটেন্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৬৭১ কোটি ৩১ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮.৫৭ শতাংশ বেশি। প্রবাসীরা গত সেপ্টেম্বর মাসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।

রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ার সুফল পাচ্ছে অর্থনীতির অন্যান্য খাতের সুবিধাভোগীরাও। রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি এখনও চাঙা রয়ে গেছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে। ব্যাংকের আমানতও বাড়ছে। দীর্ঘদিনের মন্দায় থাকা পুঁজিবাজারে প্রাণ ফিরে আসতে শুরু করেছে। গলির দোকান থেকে শুরু করে বড় শিল্পকারখানা—সবই চলছে স্বাভাবিক সময়ের মতো। আমদানি-রফতানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবহন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে।

এর আগে প্রবাসীরা গত জুলাইয়ে ২৬০ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন দেশে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এক মাসে এত রেমিটেন্স কখনো আসেনি। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত জুনে। ওই মাসে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।

 

পাঠকের মন্তব্য