তেরো বছরে বেরোবি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

তেরো বছরে বেরোবি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

তেরো বছরে বেরোবি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল, বেরোবি প্রতিনিধি : শিক্ষাক্ষেত্র, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি অর্জনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে ২০০৮ সালের ১২ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও কয়েক মাস পর (৮ এপ্রিল ২০০৯)এর নাম পরিবর্তন করে নারী জাগরণের পথিকৃৎ মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের নামে এর নামকরণ করা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর হিসেবে।

১৩ তম জন্মদিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের রয়েছে নানা প্রত্যাশা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত,সেশনজট থেকে মুক্তি, গবেষণায় পর্যাপ্ত বাজেট, আবাসিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত, মুক্তিবুদ্ধির চর্চা, বেগম রোকেয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষনা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ আরও নানা বিষয়ে প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে। গুণগত শিক্ষা ও ডিজিটালাইজেশনের প্রতি গুরুত্ব দিতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উইমেন পিস ক্যফের সভাপতি উম্মে কুলছুম মিতু বলেন, বারো থেকে তেরোতে পা দিল প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়। একটা শিশুর জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমিও বলব এই কৈশোরকালীন সময়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অপূর্ণতার মাঝেও এগিয়ে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা হয়ত এখনই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত  দেখতে চাই কিন্তু তার জন্য সময়ের প্রয়োজন। হ্যাঁ কিছু কমতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে। কিছু নোংরা রাজনীতি চলে এখানে যার বলির শিকার হই আমরা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সব কিছুরই ভাল/মন্দ দুটো দিক থাকে। সেটা যার যেমন দেখার নজর সেটার উপর নির্ভর করে। বলছি না ভাল তে ভরপুর আমার বিশ্ববিদ্যালয়। নানামুখি সংকট ও সম্ভাবনার মধ্য থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের আশার প্রদীপ। উত্তরবঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ৪ বছরের অনার্স ৬ বছরেও শেষ করতে পারিনি। তবু আশা ছাড়িনি। একদিন সেই সুদিন আসবে যেদিন বেরোবি সত্যি সত্যি উত্তরবঙ্গের অক্সফোর্ড হয়ে উঠতে পারবে। সে পথ সুগম নয় কিন্তু সেদিন আসবেই। সময় লাগুক তবুও সেইদিন আসুক এই প্রত্যাশা বেরোবির ১৩ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. জসীম উদ্দীন বলেন, 'এক যুগ পেরিয়ে ১৩তম বর্ষে পা রাখলো বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে প্রতিষ্ঠিত আমাদের  প্রাণপ্রিয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা রকম চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের এই দৃষ্টিনন্দন  অবস্থায়।নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত থাকলেও পিছিয়ে পড়িনি আমরা। দেশের অন্যান্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপন করে চলছে এখানকার শিক্ষার্থীরা।করোনাকালীন এই দীর্ঘ বিরতিতে ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন রূপে। দীর্ঘ অপেক্ষায় বেরোবিয়ানরাও। এক সুস্থ সময়ে এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফিরবে প্রাণের ক্যাম্পাস আঙিনায়। শুভ জন্মদিন প্রাণের বেরোবি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান নোবেল শেখ বলেন,উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল আজকের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো সেটা মূল্যায়নে না গিয়ে আমি প্রত্যাশা রাখি আগামী দিনে আমাদের এ প্রাণের বিদ্যাপীঠ কেবল দেশ নয়,সারা বিশ্বে যেনো সুনাম অর্জন করে।দেশের যেকোনো প্রয়োজনে বেরোবি পথপ্রদর্শক হিসেবে আগামীতে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার গুণগত মান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহবান জানাবো। পাশাপাশি সেশনজট নিরসন,নিয়োগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, হল নির্মাণে পদক্ষেপ নিতে আহবান  আহবান জানাই প্রশাসনের প্রতি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রধান কাজ গবেষক তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ ভালো মানের গবেষক হওয়া।নানামুখী সংকট যেমন আমাদের রয়েছে, তেমনি সম্ভাবনাও রয়েছে।সংকটকে মোকাবেলা করে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। ইতিমধ্যে  আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত ও পারস্পরিক সহযোগীতার মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও বলেন,আমরা পরিপূর্ণ ডিজিটাল ও পেপারলেস বিশ্ববিদ্রলেস প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছি। আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত আছি।এ সময় তিনি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে,যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। 

পাঠকের মন্তব্য