সীমিত পরিসরে বেরোবির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সীমিত পরিসরে বেরোবির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সীমিত পরিসরে বেরোবির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বেরোবি প্রতিনিধি : শিক্ষাক্ষেত্র, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি অর্জনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে ২০০৮ সালের ১২ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তেরো বছরে পদার্পণ করেছে দেশের অন্যতম প্রধান এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।দীর্ঘ এই সময়ে বেরোবি থেকে পড়াশোনা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন অনেকে।

প্রতি বছর এই দিনকে ঘিরে থাকে নানা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, দেবদারু,বিজয়,কৃষ্ণচূড়া সড়ক একাডেমিক ভবনসহ আবাসিক হলগুলোতে থাকে রং-বেরঙের আলোকসজ্জা। ক্যাম্পাসজুড়ে থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু এবার করোনার থাবায় সীমিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করতে হচ্ছে দিনটি। নেই জমকালো পরিবেশ, নেই শিক্ষার্থীদের বিচরণ এবং নেই কোনো বর্ণিল সাজ।

পতাকা উত্তোলন,বৃক্ষ রোপণ,বাস উদ্ভোধন,ভার্চুয়াল আলোচনা সভা,ছাত্র-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে শিক্ষক জীবন ভালো না ছাত্র জীবন শীর্ষক ভার্চুয়াল বিতর্ক আয়োজনের  মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। 

বিকেল ৪টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বশরীরে এবং জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনার সভাপতিত্বে ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট তাবিউর রহমান প্রধানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও। 

এসময় তিনি জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে নিরলসভাবে কাজ করছেন। করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষাকার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রফেসর কলিমউল্লাহ বলেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সেশনজট কমাতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন কোনো ধরনের গাফিলতির কারণে বিলম্বিত হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ইমেজ অটুট রাখার মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনা বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একযুগের পরিক্রমায় বেশ কিছু অর্জন উঠে এসেছে,বর্তমান মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও-এর বিচক্ষণ দিক-নির্দেশনায়। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের উপর অর্পিত দায়িত্ব সমানভাবে পালন করতে পারলে এগিয়ে যাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের প্রশাসক প্রফেসর ড. নাজমুল হক, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিক (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আর এম হাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার কর্ণেল আবু হেনা মুস্তাফা কামাল, এএফডব্লিউসি, পিএসসি (অব:), বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ আতিউর রহমান সহ আরও অনেকেই। 

পাঠকের মন্তব্য