ধর্ষণ রোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করছে পুলিশ

ধর্ষণ রোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করছে পুলিশ

ধর্ষণ রোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করছে পুলিশ

ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সারা দেশে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে অনেক মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলা শহরে একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে এ টিম কাজ শুরু করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ৫০টি থানায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের প্রধান করা হয়েছে থানার ওসি-তদন্তকে।

গত সপ্তাহে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম কুইক রেসপন্স টিম গঠন করতে সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসিদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের টিমটি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ টিম তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করছে।’

শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কুইক রেসপন্স টিমের তৎপরতায় এলাকায় ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কমবে। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রাজধান‌ীর এ দুই থানায় নয়, প্রতিটি থানায় কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে। এর পাশাপাশি তেজগাঁওয়ের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) অধীনে থাকবে একটি টিম। দুজন নারী পুলিশ সদস‌্যসহ ছয় সদস্য থাকবেন এ টিমে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইনি সহায়তায় ২৪ ঘণ্টাই কাজ করবেন তারা।

ডিএমপির মুখপাত্র উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কুইক রেসপন্স টিম করা হয়েছে। ধর্ষণের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধ করবেন এ টিমের সদস্যরা। সেজন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। আশা করছি, সফলতা আসবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব থানায় এ টিম গঠন করা হবে। এ টিমের সদস্যরা কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দেবে। দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের মুখে ইতোমধ্যে সরকার আইন সংশোধন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সারা দেশে সমাবেশও করেছে পুলিশ। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন রোধে হটলাইনও চালু করেছে পুলিশ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে ৯৭৫ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অনেকে। অবশ্য এ হিসাবের চেয়েও বেশি ধর্ষণ হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী লোকলজ্জায় তা প্রকাশ করেন না।

বুধবার রাতে এ বিষয়ে কথা হয় পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে নিয়মিত কাজ করছে পুলিশ। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় এগুলো নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেজন্যই মূলত কুইক রেসপন্স টিম করা হচ্ছে।’

পাঠকের মন্তব্য