দাবি মেনে নেয়ায় তিনদিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা

দাবি মেনে নেয়ায় তিনদিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা

দাবি মেনে নেয়ায় তিনদিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা

খোরাকি ভাতা বাড়ানোসহ দাবি মেনে নেয়ায় তিনদিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নৌ যান চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নৌযান শ্রমিক মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত জারি থাকায় এখনো কাজ শুরু করেননি নৌযান শ্রমিকরা।

বৈঠকে নৌ শ্রমিক দের খাদ্য ভাতা (খোরপোশ) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ছোট জাহাজগুলোর জন্য ১০০০ টাকা, ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টনের জাহাজের জন্য ১২০০ টাকা ও তার চেয়ে বড় নৌ যানের জন্য দেড় হাজার টাকা খাদ্য ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে। এর ফলে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিকরা। আর, শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকল নৌ শ্রমিকদের এখন থেকেও কাজ শুরু করতে আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা। 

বৈঠকে কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, 'উচ্চতর সোপানে ওঠার পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা জাহাজ মালিকরা এবং আমাদের অধীনস্ত শ্রমিক ভাইয়েরা সবাই আপনাদের সঙ্গে থাকবো। ভবিষ্যত বাংলাদেশ উন্নয়নে আমরা শরিক হবো।'

বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, 'বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে উন্নতি ঘটানোর জন্য নৌযান শ্রমিকেরা যে আন্দোলন কর্মসূচী নিয়েছিলেন এ মুহূর্ত থেকে তা প্রত্যাহার করা হলো।' 

এসময় নৌ শ্রমিকদের খোরাকির দাবি ন্যায্য ছিলো বলে মত দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেন, 'এক টন হতে সর্বোচ্চ টন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক খোরপোশ পাবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে জনজীবনে শান্তি ফিরে আসবে।'

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে সারা দেশে খোরাকি ভাতা ও বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে তিন দিন ধরে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট চলে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের সব বন্দর ও নৌপথে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছে ২১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য। নরসিংদীর ঘোড়াশালের শীতলক্ষ্যায় আটকা পড়েছে পণ্যবাহী শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ। বরিশাল, খুলনা, মোংলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব নৌ পথেই বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী যান। শ্রমিকরা জানিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। আর ধর্মঘটের মধ্যেই নৌযান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও তিনটি সংগঠনের নেতারা জানিয়েছিলেন, শ্রমিকদের কোনো দাবি মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

পাঠকের মন্তব্য