নভেম্বরের মাঝামাঝি দিকে যুবলীগ কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা  

নভেম্বরের মাঝামাঝি দিকে কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা  

নভেম্বরের মাঝামাঝি দিকে কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা  

আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে আওয়ামী যুবলীগের নতুন কমিটি। এই কমিটিতে জায়গা হচ্ছে না বিগত কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতার। বিভিন্ন কারণে বাদ পড়ছেন তারা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট বিগত কমিটির সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরো ২০টি পদ। অর্থাৎ আগামী কমিটি হচ্ছে ১৭১ সদস্যের। নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন। এ ছাড়া জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তিও নতুন কমিটিতে স্থান পেতে যাচ্ছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটির ক্ষেত্রেও ৮ থেকে ১০টি পদ খালি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নতুন কমিটি সম্পর্কে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘কমিটির সদস্য বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করবে নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তের ওপর। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আমরা আশা করি খুব দ্রুতই, নভেম্বরের মাঝামাঝির দিকে সম্ভাবনা আছে।’

জানা যায়, গত বছরের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক বছর হতে চললেও সংগঠনটির বাকি ১৪৯টি পদ পূরণ হয়নি। তবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক। তালিকা চূড়ান্ত করে গত সোমবার তারা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। 

সূত্রমতে, গত কমিটির যোগ্যদের সঠিক মূল্যায়ন না করলেও এবার তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও এবার নতুন কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সংখ্যা ২৬ থেকে এবার ২৮ হবে। তার মধ্যে সাবেক কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্য থেকে মাত্র চার থেকে পাঁচজন, যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্য থেকে চারজন, সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্য থেকে দুজন, সম্পাদকমণ্ডলী থেকে চারজন, সদস্যদের মধ্য থেকে থাকছেন প্রায় অর্ধেক।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ একটি বেড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন হচ্ছে। এই পদে আসছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একজন, সম্পাদকমণ্ডলীর একজন, সহসম্পাদক একজন, সদস্য একজন ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ নতুন দুজন। গত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছিল ৯টি। আগামী কমিটিতে এটি ১০ হতে পারে। এই পদে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একজন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একজন, সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে দুজন, সম্পাদকমন্ডলী থেকে দুজন, উপ-সম্পাদক দুজন ছাড়াও কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তি এই পদে স্থান পেতে যাচ্ছেন।

২০টি সম্পাদক পদ ছিল গত কমিটিতে। বর্তমানে এটি বেড়ে ২২টি হচ্ছে। পুরাতন থেকে চারজন, উপ-সম্পাদক থেকে ১০ জন, সহ-সম্পাদক থেকে চারজন, সদস্য থেকে দুজন; বাকি মুখগুলো নতুন। উপ-সম্পাদক পদটি ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৪ এবং সহ-সম্পাদক পদ ২০ থেকে বেড়ে ২৪টি হতে যাচ্ছে। এই দুই পদে পুরাতন কমিটি থেকে ১৫ জনের মতো রাখা হতে পারে। সদস্য পদেও ব্যাপক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।

এবার অনেক সিনিয়ররা সদস্য হিসেবে থাকবেন। এই পদটি ২৯ থেকে ৩৫ সদস্য করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পুরাতন কমিটি থেকে প্রায় ৭৩ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া সাবেক কমিটির সিসি সদস্যদের মধ্য থেকে অনেকে মূল কমিটিতে আসতে যাচ্ছেন। তবে এবার সিসি কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানা গেছে। সাবেক সিসি কমিটি ২০০ সদস্যবিশিষ্ট ছিল।

পাঠকের মন্তব্য