নন্দীগ্রামে ৯৯৯ এ ফোন করে চাঁদাবাজ ধরিয়ে দিল জনতা

নন্দীগ্রামে ৯৯৯ এ ফোন করে চাঁদাবাজ ধরিয়ে দিল জনতা

নন্দীগ্রামে ৯৯৯ এ ফোন করে চাঁদাবাজ ধরিয়ে দিল জনতা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে দেশীয় অস্ত্রের মুখে মারধর ও চাঁদাবাজির চেষ্টাকালে শাহীন আলমকে (৩৫) গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে ৯৯৯ এ ফোন করা হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীনকে গ্রেফতার করে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের তুলাশন হামিদ বাজার এলাকায় এঘটনা ঘটে। 

গতকাল শুক্রবার সকালে চাঁদাবাজি ও মারপিট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শাহীন আলমকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। সে বুড়ইল ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি ও ধুন্দার আফুছাগাড়ী গ্রামের লোকমান আলীর ছেলে। বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় জোরপূর্বক সালিশে বাধ্য করে চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই শাহীন সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন তুলাশন গ্রামের সোবাহান আলী। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীন আলমকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়ইল ইউনিয়নের তুলাশন গ্রামের সোবাহান আলীর মেয়ে মরিয়ম খাতুনের সাথে দেড়বছরপূর্বে পাশের পেংহাজারকি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকতো। সম্প্রতি স্ত্রীকে তালাক দেয় সাদ্দাম। খবর শুনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহীন আলমের নেতৃত্বে ধুন্দার বাজারের একটি চাঁদাবাজ চক্র সহ কিশোর গ্যাং হামিদ বাজারে যায়। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের নিরিহ লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনার সালিশ-মিমাংসার কথা বলে মেয়ের বাবা সোবাহান আলীকে পথরোধ করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে শাহীন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোবাহান আলীকে মারপিট শুরু করে। এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে শাহীন আলমকে আটক করে গণধোলাই শুরু করলে চাঁদাবাজ চক্রের সহযোগিরা পালিয়ে যায়। বুড়ইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লিটন চন্দ্র চৌহান বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে কোন পদে না থাকলেও শাহীন যুবলীগ করে।
 
থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবির বলেন, চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য