সৌদি আরবে খুব শিগগিরই বাতিল হচ্ছে ‘কফিল প্রথা’

সৌদি আরবে খুব শিগগিরই বাতিল হচ্ছে ‘কফিল প্রথা’

সৌদি আরবে খুব শিগগিরই বাতিল হচ্ছে ‘কফিল প্রথা’

সৌদি আরবে খুব শিগগিরই বাতিল হতে যাচ্ছে কাফালা বা কফিল প্রথা। গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের অর্থনীতি বিষয়ক দৈনিক পত্রিকা ‘মাল’-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।

সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, আগামী বছরের প্রথমার্ধে কাফালা প্রথা বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো সৌদি নাগরিকের নামে থেকে বাইরে কাজ করা, বা তাঁর নামে ব্যবসা করা, বিনিময়ে ওই সৌদি নাগরিকের মাসে মাসে একটা লভ্যাংশ নেওয়ার প্রথাটি বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।

আজ বুধবার এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল সৌদি মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের। এক সপ্তাহের জন্য তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাফালা প্রথা-এমন এক প্রথা, যেখানে প্রত্যেক প্রবাসী কোনো না কোনো সৌদি নাগরিকের নামে থেকে কাজ করবেন। অথবা তাঁর নামেই ব্যবসা করবেন। বিনিময়ে তাঁকে প্রতি মাসে দেবেন লাভের একটা অংশ। কাফালা প্রথার কারণে নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় প্রবাসীদের। অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি নাগরিক বা কফিল প্রবাসীর অধিকার রক্ষা না করে, প্রবাসীর অর্থ লোপাট করে নিজেই লাভবান হন। সৌদি আরবে কাফালা বা কফিল প্রথায় লাখো প্রবাসী বাংলাদেশিসহ কফিলের অন্যায়ের শিকার হয়ে অবৈধ হয়েছেন এবং অনেকে সৌদি আরবে অবৈধ অনিশ্চিত জীবনে আটকা পড়ে আছেন।

এ প্রথা বাতিল হলে প্রবাসীরা সরাসরি শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাবেন। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ই হবে তখন প্রবাসীর অভিভাবক। শ্রম মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট অর্থ অবশ্যই নেবে, তবে সেক্ষেত্রে প্রবাসীর অর্থ লোপাট এবং অবৈধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ করছিল সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়। শেষ পর্যন্ত কাফালা প্রথা বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের পথে হাটছে সৌদি আরব।

সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের একটা বিরাট অংশ ভয়ে তটস্থ থাকেন, তার কফিল কখন জানি মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে বসেন, অথবা কখন জানি তাকে বঞ্চিত করে নিজেই ব্যবসার দখল নিয়ে নেন। যেহেতু দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কফিলের নামে, সেহেতু এরকম ঘটনায় আইনের সহায়তাও খুব বেশি পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

কাফালা প্রথা বিলুপ্তির পর, ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নিজেদের কাগজপত্র নিজেরাই করে নিতে পারবেন এবং নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানোর ভয় আর থাকবে না। ইকামা নবায়ন ও স্বাধীনভাবে এক্সিট-রিএন্ট্রি ভিসা গ্রহণের মতো অনেক কাজই প্রবাসী কফিলের কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই করতে পারবেন।

শ্রম এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা মতে, আগামী সপ্তাহে কাফালা ও কফিল প্রথা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে এবং তা ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসেই কার্যকর করা হবে। ২০১৮ সালের ১৪ মে এ বিষয়ে সৌদি সরকারের মন্ত্রিসভায় একটি সিদ্ধান্ত হয়। এটি কার্যকর হলে দেশটিতে বসবাসরত এক কোটির বেশি প্রবাসী এর সুফল পাবেন।

সৌদি রাজতন্ত্রের ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বশেষতম হবে এটি।

পাঠকের মন্তব্য