যুবলীগের সভাপতির ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল; গ্রেফতারের দাবী

যুবলীগের সভাপতির ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল; গ্রেফতারের দাবী

যুবলীগের সভাপতির ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল; গ্রেফতারের দাবী

বাজিতপুর প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ বাজিতপুর উপজেলা মাইজচর ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সভাপতি আব্দুল গফুর এর ছেলে মাইজ চর ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি ইয়াবা ব্যবসায়ী আব্দুল গাফফার এর সম্প্রতি একটি ইয়াবা সেবন করা ভিডিও ফেইসবুকে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে যে আব্দুল গাফফার নিজেই ইয়াবা সেবন করছে। বিভিন্ন সুত্রে এলাকার  অনেকজনের সাথে কথা বলে ইয়াবা সেবন করার ভিডিও সত্যতা পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে ও হাওরের বিভিন্ন অঞ্চলে সব সময় ইয়াবার ব্যবসা দাপটের সাথে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে যুবলীগের সভাপতি আবদুল গাফফার। 

মাইজচর ইউনিয়নে মাদকের ও ইয়াবা ব্যবসা করার কারনে এলাকার তরুন ও মধ্যবয়সী যুবকরা মাদক সেবন করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বিপথে চলে যাচ্ছে। আরো জানা যায় যে, এলাকার বিভিন্ন বেকার তরুন ছেলেদের কে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা সে নিয়মিত করিয়ে নিচ্ছে এবং ইয়াবা সেবন করতে তাদের কে বাধ্য করছে। 

এই বিষয়ে মাইজচর ইউনিয়ন এর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলি আকবর বলেন যে, আবদুল গাফফার আমদের ইউনিয়নের তরুন ছেলেদের কে নষ্ট করে দিচ্ছে মাদকের সাথে তাদের কে জড়িয়ে। আমার জানামতে সে দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ব্যবসা করে এবং নিয়মিত সে ও ইয়াবা সেবন করে। তিনি আরো বলেন, মাননীয় এমপি মহোদয় এর সহযোগিতা ও থানার ওসির সহযোগিতা তার গ্রেফতারের দাবী করছি যেন যুব সমাজ যে আর মাদকের গায়েল না করতে পারে।

মাইজচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ধন মিয়া বলেন, ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি আবদুল গাফফার এর ভিডিও তার চেহেরাটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ও সে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করে। আবদুল গাফফার বাড়ি ৭নং ওয়ার্ডে হওয়াতে তার এলাকার যুবলীগের ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা  বলেন, যুবলীগের পদ ব্যবহার করে এলাকার মধ্যে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে আমরা চাইলে ও অনেক সময় বলতে পারি না। যারা দলের পদ ব্যবহার করে খারাপ করে তাদের কে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত ও আইনের আওতায় আনা উচিত। 

মাইজচর ইউনিয়নের বিশিষ্ট মুরব্বি মাতাব্বর হাজী খন্দকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি ভিডিওটি এখনো দেখিনি, ভিডিওটি দেখে ঘটনা যদি সত্যি হয়  সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করব।
 
স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মঞ্জু মিয়া বলেন, আমার এলাকার জনপ্রতিনিধি সবার ভোট দরকার আছে তাই সরাসরি কিছু বলতে পারি না, তবে গাফফার মাদকের সাথে জড়িত এবং নিয়মিত ব্যবসা করে। মাইজচর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা এ বিষয়ে বলেন, গাফফার মতো লোক বিএনপি পরিবার থেকে যুবলীগ পদ নিয়ে মাদক ব্যবসা ও কুর্কম করে আমাদের দলীয় সুনাম নষ্ট করছে।

যুবলীগের উপজেলার নেতৃবৃন্দ নিকট তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করছি।  

মাইজচর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামীলীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান তৈয়ুবুর রহমান বলেন, মাদক সেবনের ভাইরাল হওয়া ভিডিও টা আবদুল গাফফারের তবে দীর্ঘ দিন আগের ভিডিও বলে মন্তব্য করে। 

ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোকন মিয়া বলেন, আমি ব্যবসার কাজে তেমন এলাকায় থাকি না সরাইলে থাকি তবে কোনো পোগ্রাম হলে এলাকায় আসি, সভাপতির ভিডিও টা এখনো আমি দেখি না অনেকেই আমাকে ফোন করে বলেছে। তবে আমি বলতে চাই তদন্ত করে সত্যি হলে ও সে যদি জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

বাজিতপুর উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, গাফফারে ভিডিওটা আমি দেখিছি কয়েকবার ও আমাকে অনেকজন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সে মাদকের ব্যবসা করে। আমরা সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো। বাজিতপুর উপজেলার সভাপতি গোলাম রসুল দোওলত ও বলেন, গাফফার এর মাদকের বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত করতেছি যদি সে জড়িত থাকে আমরা দলীয় ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো। গাফফারের বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিকট গাফফার এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ করে নাই ও ভিডিও পায় নাই, যদি কেউ অভিযোগ করে এবং আমরা ভিডিও টা তদন্ত করে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নিবো।

এই বিষয় নিয়ে জানার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল কে বেশ কয়েক বার ফোন করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি, তবে যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট মীর মোহাম্মদ সোহেল কে ফোন করলে তিনি বলেন, যদি ভাইরাল হওয়া ভিডিও আমরা দেখেছি ও ইতিমধ্যেই আমরা উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে বলে দিয়াছি বিষয়টা তদন্ত করার জন্য ও ইয়াবা সেবন কারী যদি আবদুল গাফফার হন বা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে আমরা সুষ্ঠ তদন্ত করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো। 

গাফফার বিষয়ে মন্তব্য নেওয়ার জন্য বাজিতপুর উপজেলার মাননীয় এমপি আফজাল হোসেন কে বেশ কয়েক বার ফোন করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি আব্দুল গাফফার এর বিরুদ্ধে স্হানীয় লোকজন দলবল নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষ ও শিক্ষিত, ব্যবসায়ীক লোকেরা সবাই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করছে ও তাকে গ্রেফতারের দাবী করছে এলাকাবাসী। সেই সাথে মাননীয় এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। পরবর্তী তে যেন আর যুব সমাজ কে মাদকের দ্বারা নষ্ট করতে না পারে।

পাঠকের মন্তব্য