মাদক বিরোধী প্রতিবেদন করে সাংবাদিক চাঁদাবাজীর মামলায় জেলে

মাদক বিরোধী প্রতিবেদন করে সাংবাদিক চাঁদাবাজীর মামলায় জেলে

মাদক বিরোধী প্রতিবেদন করে সাংবাদিক চাঁদাবাজীর মামলায় জেলে

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর মাদক কারবারির তেলেজমাতি

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি : দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে চাঁদাবাজীর মামলায় একটি দায়িত্বশীল অনলাইন নিউজ পোর্টালের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতের আনুমানিক সাড়ে ১১টায় সময় যৌনপল্লীর সংলগ্ন দৌলতদিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে প্রজন্মকণ্ঠ ডট কম এর শাখা অফিস থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।    
 
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সোনা মিয়ার ছেলে রাসেল রাফি (২৫) ও মৃত নুর আলমের ছেলে রবিন হোসেন (২৮)। 

রাসেল রাফি প্রজন্মকণ্ঠ'র স্টাফ রিপোর্টার এবং রবিন হোসেন ভিডিও এডিটর। তাদের বিরুদ্ধে যৌনপল্লীর বাড়ীওয়ালী পুষ্প রাণী বাদী হয়ে ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাজবাড়ীর ৩নং আমলী আদালতে চাঁদাবাজী ও মারপিটের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওই দিনই গোয়ালন্দ ঘাট থানায় এজাহারভুক্ত করার আদেশ দেন।
 
গোয়লন্দ ঘাট থানা পুলিশ এরই আলোকে ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতের আনুমানিক সাড়ে ১১টায় সময় যৌনপল্লীর সংলগ্ন দৌলতদিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে প্রজন্মকণ্ঠ’র শাখা অফিসে কর্মরত অবস্থায় রাসেল রাফি ও রবিন হোসেনকে আটক করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া পতিতালয়ে কড়া পুলিশী পাহাড়া থাকা সত্ত্বেও অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী’র মুখোশ লাগিয়ে ঝুমুর বেগম ও তার কথিত স্বামী দৌলতদিয়া ৫নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্য জলিল ফকির দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকাশ্যে আমদানী নিষিদ্ধ বিয়ার ও বিদেশী মদের রমরমা ব্যবসা করে আসছে। তাদের এই মাদক কারবার নিয়ে বিভিন্ন সময় বহু পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মাদক ব্যবসায়ী ঝুমুর ও জলিল ফকিরকে নিয়ে প্রজন্মকণ্ঠ ডট কমে একটি অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর থেকে মাদক সম্রাজ্ঞী ঝুমুর বেগম ও মাদক সম্রাট জলিল ফকিরসহ তাদের লালিত ক্যাডার বাহিনী প্রজন্মকণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের মেরে পদ্মায় ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলো। তাছাড়া প্রকাশিত সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যারা শেয়ার করেছে তাদেরকেও হুমকি দেয় তারা। এতাবস্থায়, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া পতিতালয়ের শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞী ঝুমুর ও মাদক সম্রাট জলিল ফকিরের মাদক ব্যবসাসহ কু-কর্ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ৩ দিন পরেই গত ২৩শে অক্টোম্বর একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয় প্রজন্মকণ্ঠের ভিডিও এডিটর রবিন হোসেন।

জানা যায়, সে যাত্রায় ২৪শে অক্টোম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ম্যাজিষ্টেট আদালত থেকে সে জামিনে মুক্ত হয়।  
 
প্রজন্মকণ্ঠের ভিডিও এডিটর রবিন হোসেন দৌলতদিয়া পতিতালয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসাসহ মাদক সম্রাজ্ঞী ঝুমুর বেগম ও জলিল ফকিরের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে ঝুমুর ও জলিল ফকির ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে জখমের উদ্দেশ্য ধাওয়া করে। তারপর রবিন হোসেন, মাদক ব্যবসায়ী ঝুমুর ও জলিলের এ ঘটনা উল্লেখ করে রাজবাড়ীর মাননীয় পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্বারকলিপি দেয়। যার অনুলিপি রয়েছে মাননীয় জেলা প্রশাসক রাজবাড়ী, যুগ্ম-পরিচালক–ডি আই ওয়ান রাজবাড়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার- গোয়ালন্দ, ডি আই ওয়ান রাজবাড়ী জেলা পুলিশ, রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের সকল সাংবাদিকবৃন্দ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, রবিন হোসেনের নামেই মামলা দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি তারা পরবর্তীতে মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত ঝুমুর বেগম ও জলিল ফকির দ্বিতীয়বারের মতো যৌনপল্লীর বাড়ীওয়ালী পুষ্প রাণীকে বাদী সাজিয়ে নতুন করে মামলা সাজানো হয় প্রজন্মকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রাসেল রাফির নামেও। তিনি আরও জানান, মাদক সম্রাজ্ঞী ঝুমুর বেগম ও জলিল ফকির এই এলাকায় অনেক ক্ষমতাবান ও টাকার কুমির। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষভাবে সহযোগীতা পেয়ে তারা এতোটাই আজ বেপরোয়া। বিষয়টি স্থানীয় সকলেই জানা থাকলেও মামলা ও হামলার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।  
   
অপরদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আটক দুই আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন গত ২০ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে যৌনপল্লীর বাড়ীওয়ালী পুষ্প রাণীর বাড়ীতে গিয়ে হামলা করে। তারা বাড়ীওয়ালীর নিকট ইতঃপূর্বে দাবীকৃত চাঁদার ২ লক্ষ টাকার জন্য অস্ত্রের মূখে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং এলোপাথারী মারপিট করে। একপর্যায়ে পুষ্প রাণী তার ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়। এরপর তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাকী দেড় লক্ষ টাকা পরিশোধের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
 
এই বিষয়ে মামলায় অভিযুক্ত রবিন হোসেন ও রাসেল রাফির পরিবারসহ এলাকার স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনের জোড়ালো দাবী এই মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে, বানোয়াট এবং ভিক্তিহীন পাশাপাশি তারা এই হয়রানীমূলক মামলাগুলি সুষ্ঠু তদন্ত দাবী জানান।
 
এ বিষয়ে গোয়লন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর গণমাধ্যমকে জানান, চাঁদাবাজী, মারপিট ও যৌনপল্লীতে ত্রাস সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে কথিত সাংবাদিক রাসেল ও রবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া পতিতালয়ের এই শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞী ঝুমুর ও মাদক সম্রাট জলিল ফকিরের মাদক ব্যবসাসহ কু-কর্ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় এই মাম্লাবাজী, গ্রেপ্তার হয়রানি। প্রশ্ন উঠছে, এর শেষ কোথায় ??   

পাঠকের মন্তব্য