ঠাকুরগাঁওয়ে দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে সর্বশান্ত একটি পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে সর্বশান্ত একটি পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে সর্বশান্ত একটি পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে দাদন ব্যবসায়ীর কাছে সুদে টাকা নিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে একটি পরিবার। সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার সুদের উপর নিয়ে সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা সুদ পরিশোধ করেও দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছাড় পায়নি তারা। বর্তমানে ওই পরিবারটি ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র রয়েছেন। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। 

ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও শহরের মিলননগর এলাকায়। 

ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই দাদন ব্যবসা চলতে থাকায় বিষয়টি যেন সবার গা সওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য।

মিলনগর গ্রামের বাসিন্দা বেলি আক্তার বলেন, আমার নাতনী অসুস্থ্য হওয়ার কারণে দুই বছর আগে  বিয়ের কিছুদিন পর আমার জামাই রাবেল দুবাইয়ে কাজ করতে চলে যায়। এরমধ্যে আমার মেয়ে সুরমা আক্তার মিলি অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে তাকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর মেয়ের কন্যা শিশু হয়। ছোট্ট কন্যা শিশুটি খুবই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তার চিকিৎসা করার মত টাকা আমার হাতে ছিলনা। তখন প্রতিবেশি নারগিছ পারভীনের কাছে একটি ফাঁকা চেক জমা দিয়ে সুদের উপর সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা নেই। সেই টাকা দিয়ে নাতনির চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হয়। এরমধ্যে ২ মাস নারগিছ পারভীনকে সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। 

তিনি বলেন, দুই মাস সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এরপর থেকে ওই নারগিছ পারভীন ও তার স্বামী আব্দুল বশির আমার বাড়িতে এসে আমাকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এরপর থেকে প্রত্যেক মাসে তারা আমার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে সুদ নেয়। এর মধ্যে আসল তিন লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। অবশিষ্ট বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য নারগিছ পারভীন ও তার স্বামী আব্দুর বশির আমাকে ও আমার মেয়েকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এরমেধ্য তারা আমাদের কাছ থেকে প্রত্যেক মাসে ৭০ হাজার টাকা করে নিতে নিতে ৯ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা সুদ পরিশোধ করি। তারপরও তারা আমাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং হুমকি দিয়ে আসছে। 

এদিকে দাদন ব্যবসায়ী নারগিছ পারভিনের কাছে জমাকৃত ফাঁকা চেকটি ব্যাংকে ডিসওনার করে আমাদের বিরুদ্ধে ১৩ লক্ষ টাকা সে পাবে এমন অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা করার পর থেকে তাদের অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। তাদের হুমকির ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বর্তমানে ভাই এর বাড়িতে রয়েছে মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে। 

বর্তমানে পরিবারের লোকজন তাঁকে নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন এবং জমিজায়গা দখল করে নেয়ার পায়তারা করছে বলে জানান বেলি আক্তার। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী বেলি আক্তার। 

মিলননগর এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, নারগিছ পারভিনের বাড়ি বীরগেঞ্জ, তারা এখানে এসে বাড়ি করে। এরপর থেকে অসহায় মানুষদের সুদের উপর টাকা দেয়া শুরু করে। সুদের উপর টাকা দেয়ার পর থেকে ওই পরিবারটির উপর তারা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এভাবেই এই সুদখোরদের হুমকি ও ভয়ে বেলি আক্তারের মত অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। 

এলাকাবাসী নারগিছ আক্তারকে এলাকায় দাদন ব্যবসা বন্ধের জন্য একাধিকবার বললেও কথা শুনেনি উল্টো এলাকার লোকজনকে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। বেলি আক্তারের মত অনেকেই নারগিছ পারভীনের কাছ থেকে সুদের উপর টাকা নিয়ে চক্রবৃদ্ধি সুদের কবলে পড়ে সহায়-সম্বল বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, ইদানিং ঠাকুরগাঁও দাদন ব্যবসায়ীর উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব  হয়েছে। এসব দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। 

দাদন ব্যবসায়ী নারগিছ পারভীনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, দাদন ব্যবসা বেআইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য