গরু ডাকাতদলের ৩ সদস্যকে আটক 

গরু ডাকাতদলের ৩ সদস্যকে আটক 

গরু ডাকাতদলের ৩ সদস্যকে আটক 

দেশমাতৃকার উন্নয়নের অন্যতম কর্ণধার এদেশের কৃষক। কষ্টার্জিত আয় ও দেনার টাকায় অনেক কৃষকই গড়ে তোলেন স্বপ্নের গবাদি পশুর খামার। কিন্তু স্বপ্নের ঘরে দুঃস্বপ্ন হয়ে সুযোগ বুঝে হানা দেয় কিছু মনুষ্যরুপী জানোয়ার। কখনো চুরি আবার কখনো ডাকাতি করে ছিনিয়ে নেয় দুগ্ধজাত গাভী/ গরু। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনার আর্তনাদে বিষন্নতা ছড়ায় চারপাশে! অনেকেই হয়ে যান সর্বশান্ত !

এধরণের ঘটনায় একদিকে যখন কৃষক তার সন্তানতুল্য একমাত্র উপার্জনের সম্বল হারিয়ে হতাশার দীর্ঘশ্বাসে অশ্রসিক্ত! অন্যদিকে ডাকাত চক্রের সদস্যরা রাতের অন্ধকারেই গরুগুলো জবাই কিংবা অন্যত্র বিক্রি করে পাপের টাকা  ভাগাভাগির বিবেকহীন বিকৃত আনন্দে বিভোর!

গত ২২ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার কোতয়ালী থানার মনিরুল ইসলামের খামারে হানা দেয় এমনই এক ডাকাত চক্র। ৩১ টির মধ্যে ১৬ টি গরুই নিয়ে যায় ডাকাতদল। 

সংবাদ প্রাপ্তির পর হতেই ডাকাতদলের সদস্যদের চিহ্নিত করতে ও খুঁজে বের করতে কাজে নেমে পড়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি টিম। টানা ৬ দিবা-রাত্রি নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শেষ পর্যন্ত এই অপরাধ চক্রের অন্যতম মূল হোতা ছয় মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী (৪০) কে আটক করে তারা।

মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং জানায় যে সাহিদ মিয়া ও মাসুম মিয়া নামে মাংসবিক্রেতা দুই ভাইয়ের নিকট কয়েকটি গরু বিক্রি করেছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পরবর্তিতে অভিযান পরিচালনা করে সেই দুই ভাইকেও আটক করা হয়। আটক দুই ভাইও গরু কেনা- বেচা এবং জবাই করে মাংস বিক্রির কথা স্বীকার করে। 

তাদের কাছ থেকে গরু বিক্রীর মোট ২,৯৬,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ৩ জনের দেয়া তথ্যমতে জানা যায় কুমিল্লা ও আশেপাশের জেলার আরও অনেকেই এই চক্রের সাথে জড়িত। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রচেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

কৃষকের হাসি কেড়ে নিতে চাওয়া এই অপরাধী চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকুন। অনুগ্রহ করে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।

পাঠকের মন্তব্য