বিধি না মেনে ফ্লাট বন্টন; কর্মকর্তাদের আবাসিকতা বাতিল

বিধি না মেনে ফ্লাট বন্টন করায় কর্মকর্তাদের আবাসিকতা বাতিল

বিধি না মেনে ফ্লাট বন্টন করায় কর্মকর্তাদের আবাসিকতা বাতিল

আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল, বেরোবি প্রতিনিধি : বিধি না মেনে বন্টন করে প্রায় ১০ বছর ধরে ডরমিটরিতে বসবাস করা কর্মকর্তাদের আবাসিকতা বাতিল করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের ডরমিটরির ১০টি ফ্লাটের আবাসিকতা বাতিল করে আজ বৃহস্পতিবার এক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। একই সাথে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা কর্মকর্তাদের রেজিস্ট্রার কর্ণেল (অব:) আবু হেনা মুস্তাফা কামাল স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওই কর্মকর্তাদের ফ্লাট ছেড়ে দিতে হবে এবং একই সাথে উক্ত ফ্লাটসমূহ বরাদ্দ দেয়ার জন্য আবেদন আহবান করা হয়েছে। অবৈধভাবে দীর্ঘদিন দখল করে থাকা ডরমিটরির ফ্লাটগুলোর বরাদ্দ বাতিল করাকে স্বাগত জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

উপ-উপাচার্যের পিএস ও সহকারী রেজিস্ট্রার এইচএসএম ইকবাল বলেন, সাবেক উপাচার্য আব্দুল জলিল স্যারের সময় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই কিছু কর্মকর্তা ডরমিটরির ফ্লাটগুলো দখল করে গত ৮/১০ বছর ধরে বসবাস করছেন, ফলে অন্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এগুলো বাতিল করে নতুনভাবে একটা নিয়মের মাধ্যমে এগুলো বন্টনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

জানা যায়, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে ২০১১/২০১২ সালে ডরমিটরি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাঁর আত্মীয়স্বজন ও কাছের কিছু কর্মকর্তা ডরমিটরির ১০টি ফ্লাটে উঠে পড়েন। তাদের মধ্যে জলিল মিয়ার মেয়ে রুমানা জলিল, ভায়রা রেজাউল করিম শাহ, শালীর মেয়ে মুনিরা খাতুন, মেয়ের বান্ধবী তাহমিনা আফরোজ, জলিল মিয়ার সে সময়ের ডান হাত বলে পরিচিত এবং তাঁর অপকর্মের দোসর এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, কাছের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, জিয়াউল হক, সাবেক পিএস টু ভিসি আলী হাসান ছিলেন। তবে এগুলোকে বৈধতা দেয়ার তখন গোলাম ফিরোজের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল, যে কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন মোহাম্মদ আলী এবং সদস্য ছিলেন রেজাউল করিম শাহ। যাদের তিন জনই ফ্লাট বরাদ্দ নিয়েছেন। বাকি দুই সদস্য উপ রেজিস্টার ময়নুল আজাদ এবং আমিনুর রহমান এই কমিটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে কাউন্সিল শাখার উপ রেজিস্ট্রার ময়নুল আজাদ বলেন, কখন কীভাবে কমিটি হয়েছে আমি কিছুই জানি না। তাই ওই ফ্লাট বরাদ্দের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

উক্ত কমিটির নথি থেকে জানা যায়, সাবেক উপাচার্য জলিল মিয়ার গঠিত কমিটির তিন সদস্যের সুপারিশের আলোকে ডরমিটরির ১০টি ফ্লাটের ০৯টি কোন নিয়মনীতি ছাড়াই বরাদ্দ দিয়ে একটি নোটের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল সে সময়। বাকি ০১টি ফ্লাটে জলিল মিয়ার মেয়ের বান্ধবী সহকারী রেজিস্ট্রার এবং লোক প্রসাশন বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডলের স্ত্রী তাহমিনা আফরোজ লিপির নামে কোন বরাদ্দই নেই তবুও তিনি দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করছেন।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সেসময়ে শিক্ষকদের ডরমিটরি বন্টনের ক্ষেত্রে কমিটির মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী ফ্লাট বরাদ্দ দেয়া হলেও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো করে বন্টন করা হয়। এমনকি ২০১২ সালে কর্মকর্তারা এসব ফ্লাটে বসবাস করে জলিল মিয়া ভিসি থাকাকালে কোন ভাড়া না দিয়ে ফ্রি থাকতেন। পরবর্তী সময়ে প্রফেসর একেএম নূর-উন নবী ভিসি হিসেবে যোগদান করার পর তাদের বেতন থেকে কয়েক মাসের ভাড়া সমন্বয় করেন এবং ২০১৩ সালের শেষ দিক হতে একটা নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত ভাড়া কর্তন করা হয়। বর্তমান প্রশাসন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য কিছুদিন আগে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল হক এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে উক্ত ধর্ম তৈরিতে বসবাসকারী কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ও পূর্বের ফ্ল্যাট বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ কে একাধিক মোঠোফোনে  যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পাঠকের মন্তব্য