দেশের ফার্মেসীগুলোকে মডেল ফার্মেসীতে রূপান্তর করা হবে 

দেশের ফার্মেসীগুলোকে মডেল ফার্মেসীতে রূপান্তর করা হবে 

দেশের ফার্মেসীগুলোকে মডেল ফার্মেসীতে রূপান্তর করা হবে 

বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন,‘ ঔষধ ফার্মেসী স্থাপন করতে হলে ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। ড্রাগ লাইসেন্স এবং ফার্মাসিস্ট ছাড়াই যেসব ফার্মেসী স্থাপন করা হয়েছে তা আইননুযায়ী অবৈধ। ওইসব অবৈধ ফার্মেসীতে কোন ঔষধ কোম্পানী ঔষধ সরবরাহ করতে পারবে না। তাই  ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট ছাড়া যেসব ঔষধের দোকান চালু আছে তা ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে।  

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে নীলফামারী  জেলা শহরের বাটার মোড়ে মডেল ফার্মেসী এবং বড়বাজারে মডেল মেডিসিন শপ উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সকল ফার্মেসীগুলোকে মডেল ফার্মেসী বা মডেল  মেডিসিন শপে রূপান্তর করা হবে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মডেল ফার্মেসী এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মেডিসিন শপ স্থাপনের পাইলোট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে দেশের ৩৭ হাজার মডেল  মেডিসিন শপ এবং পাঁচশত মডেল ফার্মেসী স্থাপন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

বাংলাদেশে বিশ^মানের ঔষধ তৈরী হয় উল্লেখ্য করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগ ঔষধ দেশীয় কোম্পানীর উৎপাদিত ঔষধ দিয়ে পূরণ করা হয়। এবং আমাদের দেশের উৎপাদিত ঔষধ বিশ^মানের। বর্তমানে আমাদের উৎপাদিত ঔষধ বর্হিবিশে^র ১৪৮টি দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের মানসম্মত ঔষধ তৈরী হয়। যখন এই ঔষধ বিতরণ পর্যায়ে আসে মানুষ যেখান থেকে ক্রয় করে সেই জায়গায় ঔষধের গুনগতমান ঠিক আছে কিনা সেটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘মডেল ফার্মেসী, মডেল মেডিসিন শপ’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঔষধের গুনগতমান নিশ্চিৎ থাকবে। রোগি কিংবা তাঁর স্বজন গুনগত ও মানসম্মত ঔষধ যাতে ক্রয় করতে পারেন সেই জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’ 

এসময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন, সহকারী পরিচালক অজিউল্লা, জেলা  কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, তোবারক আলী, শফিউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

জেলা  কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ বলেন, নীলফামারী জেলায় প্রায় দেড় হাজার ফার্মেসি রয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার নিবন্ধিত এবং বাকী গুলো প্রক্রিয়াধীন। সব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ফার্মাসিস্ট দ্বারা যাতে ঔষধ বিক্রি করা হয় এজন্য আমাদের সমিতি কাজ করে যাচ্ছে। 

জেলা শহরে বাটার মোড়ে অবস্থিত সৈকত ফার্মেসীকে জেলার একমাত্র মডেল ফার্মেসী এবং বড়বাজারের করিম ফার্মেসী, জামান ফার্মেসী এবং রাশেদ ফার্মেসীকে জেলার মডেল মেডিসিন শপ হিসেবে রুপান্তরিক করা হয়েছে।

এরপর দুপুরে  জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে “মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে মডেল ফার্মেসী ও মডেল মেডিসিন শপ-এর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা এবং নকল, ভেজাল, আনরেজিস্ট্রার্ড ও  মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষ প্রতিরোধে” মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির, পুলিশ সুপার মোখেলেছুর রহমান বিপিএম,পিপিএম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন, সহকারী পরিচালক অজিউল্লা, জেলা কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, তোবারক আলী, শফিউল আলম বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মন্তব্য