কবি ইব্রাহিম হোসেন এর কবিতা : 'প্রেমের বিয়ে'   

কবি ইব্রাহিম হোসেন এর কবিতা : 'প্রেমের বিয়ে'   

কবি ইব্রাহিম হোসেন এর কবিতা : 'প্রেমের বিয়ে'   

প্রেমের বিয়ে 

ইব্রাহিম হোসেন 

প্রাইমারিটা পাশ করিয়া হাই ইস্কুলে গেলাম,
পাশের বাড়ির একটি মেয়ের প্রেমে পড়লাম। 
তিনটি বছর মনে মনে ভালোবেসে থেকে,
তিন বছরের মাথায় দিলাম প্রেমের অফার ডেকে।

সেই মেয়েটি মুচকি হেসে কথা দিলো মোরে,
তোমার আমার হবে মিলন রাখবো বাহু ডোরে।
প্রেমের সাড়া পেয়ে হলো আত্মহারা মনে,
মনে আঁকি ভালোবেসে থাকবো দুজন সনে।

দুজন মিলে হারায় থাকি প্রেমের আলাপনে,
সারা বেলা স্বপ্ন দেখি দুটি চোখের কোনে। 
জানা জানি হলো হঠাৎ জানলো পাড়ার লোকে,
শাসন বেড়া জালে পড়ে বন্দি প্রেমের শোকে।

মন বসে না কোনো কাজে মনটা কাঁদে শুধু,
আর হবে না প্রিয়া আমার মনের ঘরের বধূ। 
কষ্ট বুকে প্রেমের বিষে মুখটা হলো কালা,
আম্মু গেলো বার্তা নিয়ে দিবে বিয়ের মালা।

সেই মেয়েটির বাবা ছিলো চাকরিজীবি বলে,
বিয়ের বার্তা ফিরায় দিলো নানান ছলে কলে।
আম্মু আমার ব্যর্থ হয়ে পাত্রী খুঁজে গিয়ে,
ছেলে আমার সুস্থ হবে করাই যদি বিয়ে।

পাত্র-পাত্রী দেখলো সবাই আসলো কাজী ভোরে,
বর-কনেরে বেঁধে দিলো প্রেমের বাহু ডোরে। 
ক্লাস নাইনে পড়ি যখন হলো আমার বিয়া,
বধূ সেজে আসলো ঘরে ক্লাস সেভেনের প্রিয়া।

ভাল্লাগেনা কিছু ঝরে অশ্রু বারে বারে, 
পাইলাম নাতো এই জীবনে চাইলাম আমি যারে। 
গুণবতী বধূর কোলে মাথা আমি রেখে,
জড়ায় ধরে কাঁদি আমি প্রেমের বারি মেখে।

যাও না চলে অনেক দূরে বলি তোমায় আমি,
নষ্ট আমি পাবে তুমি অনেক ভালো স্বামী। 
রাগ না করে ঝাল না করে দুঃখ পেয়ে শেষে,
শান্তনা দেয় বধূ আমার মিষ্টি মধুর হেসে। 

কষ্ট বুকে নিয়ে তারে বাড়ির বাহির করি,
চায় না যেতে লক্ষ্মী বধূ রাখে আমায় ধরি। 
সেই যে বধূ আমার শুধু আমার দুটি নয়ন, 
যার অসিলায় গড়া আমার বসত-বাড়ি ভবন।

পাঠকের মন্তব্য