গত নভেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৩৯ জনের 

গত নভেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৩৯ জনের 

গত নভেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৩৯ জনের 

গত নভেম্বর মাসে দেশে ৪৪৯টি সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৫৩৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৭৪ জন। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে পাঠায় যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতির কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা মহামারি আকারে বাড়ছে। এ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়ে যাওয়া ও জবাবদিহির অভাব সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ। এ জন্য উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নভেম্বর মাসে দেশে ৪৪৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪৮৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৪১ জন। একই সময় রেলপথে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত ও ১৩ জন আহত  হয়েছে। নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, ২০ জন আহত ও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, নভেম্বরে সংঘটিত দুর্ঘটনায় ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান, ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বাস, ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ নসিমন-করিমন, ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ২০৩ জন চালক, ১৫৫ জন পথচারী, ৯৪ জন নারী, ৪৯ জন শিশু, ৪২ জন পরিবহনশ্রমিক, ৩৩ জন শিক্ষার্থী, ১৬ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ১০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৮ জন শিক্ষক, ৫ জন বিচারক, ৩ জন চিকিৎসক এবং ৩ জন সাংবাদিকের পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। নিহতদের ১৫৭ জন চালক, ১৩৯ জন পথচারী, ৭২ জন নারী, ৩২ জন শিশু, ২৫ জন পরিবহনশ্রমিক, ২৫ জন ছাত্রছাত্রী, ১৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৮ জন শিক্ষক, ৩ জন চিকিৎসক, ৫ জন পুলিশ ও ১জন আনসারবাহিনীর সদস্য।

এ মাসে এক দিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১৯ নভেম্বর। এদিনে ২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়। এক দিনে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৩ নভেম্বর। এদিন ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়।

দুর্ঘটনার ধরন বিশেস্নষণ করে যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, দেখা গেছে এ মাসে মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৫১ দশমিক ১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ দশমিক ৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়।

পাঠকের মন্তব্য