বর্তমান বাংলাদেশে কত লাখ রোহিঙ্গার বসবাস ? 

বর্তমান বাংলাদেশে কত লাখ রোহিঙ্গার বসবাস ? 

বর্তমান বাংলাদেশে কত লাখ রোহিঙ্গার বসবাস ? 

সত্তরের দশক থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। বর্তমানে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে বাস করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

অল্প জায়গায় বেশি রোহিঙ্গা বসবাসের ফলে কক্সবাজার ও আশপাশের অঞ্চলে দেখা দিয়েছে পরিবেশ ও সামাজিক নানা সমস্যা। এর থেকে উত্তরণে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ভাসানচরে। এতে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে কিছুটা হলেও চাপ কমবে আর ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গারা পাবে তুলনামূলক উন্নত জীবন। 

১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক শাসন শুরু হলে ধীরে ধীরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বহীন হতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এরপর ১৯৭৮ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানের মুখে প্রথমবারের মত প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের ফিরিয়ে নিতে সে বছরই প্রত্যাবাসন চুক্তি করে দুই দেশ। এর অধীনে ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রায় ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যায়। 

১৯৯২ সালে আবার দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। ওই সময় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আরেকটি সমঝোতা হয়। এর অধীনে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে মাত্র দুই লাখের কিছু বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আর কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। 

সবশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে ব্যাপক হারে বাংলাদেশে আসতে থাকে তারা। ২৫শে আগস্ট রাখাইনে সরকারি বাহিনীর উপর বিদ্রোহীরা হামলা চালালে আবারও অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। প্রাণে বাঁচতে এরপর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।

কয়েক মাসে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। আগের কয়েক লাখ মিলে এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা গিয়ে ঠেকে প্রায় সাড়ে ১১ লাখে। 

সেসময় মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ ওঠে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নির্যাতনকে জাতিগত নিধনের পাঠ্যবইয়ের উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করে জাতিসংঘ। 

বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ২০১৭ সালের ২৩শে নভেম্বর নেপিদোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। তবে ২০১৮ ও ২০১৯- এ বাংলাদেশ দুই দফা উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়। 

এরপর গত বছরের নভেম্বরে আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে গাম্বিয়া।  শুনানি শেষে মিয়ানমারকে রাখাইনে গণহত্যা রোধে অন্তবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয় আদালত। যার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। 

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বসবাসের ফলে কক্সবাজার ও আশপাশের অঞ্চলে দ্রুতই দেখা দিতে থাকে নানা সামাজিক সমস্যা। এ অবস্থায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। নানা সীমাবদ্ধতায় এতদিন তা আটকে থাকলেও কয়েকশ রোহিঙ্গা স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে অবশেষে সেই কর্মযজ্ঞের শুরু হল। 

পাঠকের মন্তব্য