আমরা সাউন্ড পলিউশন থেকে মুক্তি চাই

আমরা সাউন্ড পলিউশন থেকে মুক্তি চাই

আমরা সাউন্ড পলিউশন থেকে মুক্তি চাই

শীত হলো বাঙ্গালী উৎসবের আর একটি প্রিয় ঋতু, নবান্ন উৎসবের আমেজে নতুন জামাই আসে শশুর বাড়িতে। হরেক রকম পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম পরে যায় গ্রামে গ্রামে। আত্বিয়-স্বজন বেড়াতে আসে একে অপরের বাড়িতে। আগে বিয়ে হলেও নবান্নকে ঘিরে কনে'কে বিদায় দেয়ার জন্য দিন গোনে বাবা মা। এটি গ্রামের মধুর চিত্র।

এখন এই চিত্রের ভিন্ন রুপ আমাদের কানে ভেসে আসে। শীত আসলেই যেন আমাদের রাতে দূর্বিসহ নির্ঘুম রাত কাটে। বিভিন্ন ডিজে মিউজিকে এপাশ ওপাশ করে সারা রাত কেটে যায়। ডিস ডিস, ডুম ডুম, আস্তে আস্তে চালাও টেম্পু, ফাইট্টা যায়, বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া, মুন্নি বাদনাম হুয়ি, ধিমে ধিমে, লাইলা মাতে লাইলা মাতে, তু খিচ মেরা ফটো আরো কত কিছু !!

এছাড়াও গরু জবাই করার মাইকিং চলে রাত ৮ টা থেকে রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত। শীতের রাতে গ্রামের মানুষেরা ৮/৯ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরে, শিশুরা সন্ধ্যার মধ্যেই ঘুমায়। গ্রামের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে গরু জবাই করা গরু জবাই করার নিয়মানুসারে লাইভস্টোক অফিসার প্রথমে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন, নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে গরু জবাই করা হবে, বজ্রগুলো নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যাবস্থা করা হবে। কিন্তু আমরা কোনদিন লাইভস্টোক অফিসার এসে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। যেভাবে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে গরু জবাই হচ্ছে তাতে জেলা উপজেলায় প্রানী সম্পদ বিভাগের কোন অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কিনা কেউ তা আমরা জানি না। কিছুদিন আগে পুলিশ সুপার মহোদয় এরকম পিকনিক নামের রাতের ঘুম নষ্টকারীদের সাউনন্ড সিস্টেম বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, আমরা আশা করি এটি অব্যহত রাখুন।

শীত আসলে এসবের উপদ্রব বেমালুম বেড়ে যায়, সারারাত চলে এসব রিমেক ও ডিজে মিউজিক। সারারাত পিকনিক উৎযাপনের সাথে চলে মাদক সেবন। মাদক সেবন করলে ভালো মন্দ বাছ বিচারের ক্ষমতা থাকে না, চলতে থাকে গান বাজনা। বৃদ্ধ ও শিশুরা ঘুমালে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়। হঠাৎ উচ্চস্বরযুক্ত শব্দে কেউ স্ট্রোক করতেও পারে। শ্রবণ শক্তি লোপ পেতে পারে। এই স্টাটাস লিখতে ঘড়িতে এখন সময় রাত ১ বেজে ৪০ মিনিট। বিভিন্ন গ্রামের পাশের ফাঁকা জমিতে, সেচ পাম্পের ঘরে চলে এসব উচ্চস্বরের মাইক, বক্স এখন আইন করা হয়েছে যে রাত বারোটার পরে কেউ উচ্চস্বরযুক্ত শব্দ বাজালে বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেটার ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনটি ভুলে গেলো! সারারাত ভর পিকনিকের নাম করে এমন এমন বিরক্তিকারকেরা যদি কিশোর হয় তবে এরাই কিশোর গ্যাংয়ের এখন ফাস্ট স্টেজে এখন অবস্থান করছে। এরা এক সময় হয়ে যেতে পারে কোন সন্ত্রাসী। বাবা মা'য়ের উচিৎ তার সন্তান কোথায় যায় কি করে খবর রাখা।

তাই এখন যদি এই সামান্য বিষয়গুলি নিয়ে আমরা কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করি তবে ভবিষ্যতে আমাদের কঠিন সমস্যার সম্মুখিন হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে আমরা ছোট বড় কোন অপরাধা করতাম না। জেলা, থানার ও ফাঁড়ির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমরা সাউন্ড পলিউশন থেকে মুক্তি চাই।

লেখক : মাইদুল ইসলাম; চিলমারী।

পাঠকের মন্তব্য