ধর্মপ্রচারকের কথায় না আছে ধর্ম; না আছে রাজনীতি 

ধর্মপ্রচারকের কথায় না আছে ধর্ম; না আছে রাজনীতি 

ধর্মপ্রচারকের কথায় না আছে ধর্ম; না আছে রাজনীতি 

চরমোনাই পীর বলেছেন, সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে চায়। তিনি ভোট চোরদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারী দিয়ে ইসিকে দায়িত্ব ছাড়তেও হুংকার দিলেন। 

এই লোক সত্য বললেন কি মিথ্যা বললেন, সে প্রশ্ন আমাদের নয়। আমাদের প্রশ্ন হলো এগুলো কি ধর্মপ্রচারকের কথা ? এই লোক ধর্মপ্রচার করছেন, নাকি রাজনীতি করছেন ?

আমরা জানি ইসলামে গণতন্ত্র নাজায়েজ। এখানে আছে সিলেকশন, ইলেকশন নয়। খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ও ইলেকশন ছিলোনা, বর্তমানেও পৃথিবীর কোন ভালো ইসলামী মডেলে গণতন্ত্র নেই। ইসলামের প্রধান দুই সোল এজেন্ট সৌদি আরবে রাজতন্ত্র আর ইরানে একতন্ত্র। বাকী ইসলামী বিশ্বের শাসনতন্ত্র মানব রচিত এবং সেক্যুলার স্টাইল, তাই গণতন্ত্র। 

ইসলামে গণতন্ত্রের ঝুঁকি হলো, মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিলে অনৈসলামিক আকিদার মেনিফোস্টোই জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ মানব সম্প্রদায়ের ইতিহাস হলো, মানুষ দীর্ঘদিন কাল্পনিক স্টোরির উপর মানবিক জীবন চলতে দিতে চায়না। 

সেজন্যেই পৃথিবীতে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর আসার পরেও আজো পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ ধর্মের সীমা ক্রশ করে জীবন যাপন করে। তাই যেকোন ধর্ম গণতন্ত্রর বিরুদ্ধে। এই যদি হয় বাস্তবতা তবে জনাব চরমোনাই পীর ওয়াজের নামে নছিহতের আবহে এসব কি বলেন ? 

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবস্থা ভালো নয়, এটি আমরা সবাই কমবেশি জানি এবং মানি। কিন্তু এসব কথা আমরা মাহফিলে শুনতে চাইনা। এসব শুনবো রাজনীতির মাঠে।  মাহফিলে আমরা শুনবো ধর্মের কথা, আধ্যাত্মিকতার কথা, শান্তির কথা। এসব অশান্তি সৃষ্টিকারী উস্কানীর কথা নয়। রাজনীতি রাজনীতিবিদগণ করুক, ধর্মপ্রাণরা নির্বিঘ্নে ধর্মকর্ম করুক। ধর্মকর্মে বাঁধা আসলে আমরা সবাই তাঁদের পক্ষে কথা বলবো। 

কিন্তু এরা ঠিকমতো ধর্মকর্মও করছেন না, রাজনীতিও করছেন না। এরা একের পর এক ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করে যাচ্ছেন। আমাদের বিশ্বাস হলো, এদের থামানোর সময় হয়েছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Md Golam Sarwar
লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট 

পাঠকের মন্তব্য