বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও কিছু কথা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও কিছু কথা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও কিছু কথা

ইকবাল আহমেদ লিটন : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাটি হাটি পা পা করে ৭৩ বছরে পা রেখেছে। আজ ৪ঠা জানুয়ারি ২০২১ বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। তারুণ্যের উচ্ছল প্রাণ বন্যায় ভরপুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা দেশের ইতিহাসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেন লড়াই করেছেন প্রতিটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে !!

১৯৪৮ সালে ৪ ঠা জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অধ্যায়ে পরিনীত হয়েছে। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ স্থান দখল করে আছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাস কেবলমাত্র একটি ছাত্র সংগঠনের ইতিহাস নয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে দেশের ছাত্র রাজনীতি এবং ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়াস সমুহের ইতিহাস।দেশ বিভাগের পর পশ্চিম পাকিস্থানের স্বৈরাচারী শাসক গোষ্টির রাষ্ট্রভাষা বিরোধী কার্যকালাপ ও বৈষম্যমুলক একচোখা নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগই ছিল একমাত্র পাকিস্থান বিরোধী ছাত্র সংগঠন।

১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম। ব্রিটিশ পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত হওয়া পাকিস্থানী পরাধীনতায় প্রবেশের এক বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সেদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে রেখেছিলেন দুই যুগ। আজ ইতিহাসের সাধারন পাঠক মাত্রই জানেন বাংলা ও বাঙালির যা কিছু অর্জন তার সবকিছুর গর্বিত অংশিদার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। পৃথিবীর দেশে দেশে গনতান্ত্রিক স্বাধিনতা সংগ্রামের ইতিহাস খুজলে দেখা যাবে সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নিয়েছে অনেক সংগঠন। এগিয়ে নিয়েছে সময়কে। 

১৯৪৮ সালে সময়ের প্রয়োজনেই জন্ম নেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ইতিহাস স্বাক্ষী আছে তৈরি করা পথে কখনোই হাটেনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বরং পথ তৈরি করে নিয়েছে বার বার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অহনির্শ লড়াই সংগ্রাম ইতিহাসের অগ্নিগর্ভে জন্ম নিয়েছে ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৭ এবং অবশেষে ১৯৭১ সালের আন্দোলন সংগ্রাম। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৪ বছর স্বাধীনতার লড়াই সংগ্রামের আগুনে পুড়ে খা খা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা -কর্মীরা। 

স্বাধীনতার পুর্ব পরিস্থিতিতে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ানে তরুন যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তরুনদের চেতনা সমাজের সর্বস্তরের জনগণের উপর প্রভাব বিস্তার করে শহর থেকে দুর-দুরান্তরের গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এই উদ্দীপ্ত চেতনা সকল শ্রেনীর পেশার, বয়সের, নর-নারীর মাঝে স্বাধীনতার আকাঙ্খা, শক্তি ও সাহস জুগিয়েছিল। সেই সময়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপুর্ন স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের চৌকস কর্মসুচী সমুহ বাস্তবায়ানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিবেদিতভাবে কাজ করে গেছে। তাই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন "ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালী জাতির ইতিহাস। তাই না হলে, জাতীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব যখন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, আন্দোলন সংগ্রাম যখন স্তিমিত হয়ে পড়েছে, তখন জনগন বুকভরা আশা নিয়ে তাকিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দিকে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাদের নিরাশ করেনি। 

বাঙালী জাতির প্রতিটি লড়াই-সংগ্রাম আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা আপোষহীন সংগ্রামী ভুমিকা পালন করেছে তারুন্যের উচ্ছাল প্রান বন্যায় ভরপুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্ধ ও কর্মীরা দেশের ইতিহাসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, লড়াই করেছেন প্রতিব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এদেশের উন্নিতির জন্য, গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করে জাচ্ছে। 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এদেশের মানুষকে একটি পতাকা ও একটি স্বাধীন ভু-খন্ড উপহার দিয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮ হাজার নেতাকর্মী শহীদ হয়েছে। যার ফলে স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পেয়েছে। এখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার " টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান "ভিশন নিয়ে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের রুপায়িত করার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তাই আসুন আমরা এই ঐতিহাসিক ছাত্র সংগঠনের পতাকা তলে এসে ইতিহাসের ও ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশিদার হই।

লেখক : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ

পাঠকের মন্তব্য