ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ৫ নারী

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ৫ নারী

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ৫ নারী

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন কাজে সফলতা অর্জন করায় উপজেলা পর্যায়ে ২০২০ শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ৫ নারী। জয়তিরা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের সাইফুর রহমানের স্ত্রী কুলছুম বেগম, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মেয়ের শিক্ষাবৃত্তির টাকা দিয়ে ছাগল পালন করে এখন স্বাবলম্বী। 

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোটখাটামারী গ্রামের চৌধুরী পাড়ার মশিউর আলমের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা। সাংসারের পাশাপাশি শিশু অধিকার, শিশু সুরক্ষা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। বাল্যবিবাহের কুফল বিষয়ে সচেতনতামুলক পরামর্শ প্রদান করা এবং সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অবদান রেখেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে উঠান বৈঠক সহ বিচার শালিশে অংশগ্রহন করে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য কাজ করেছেন।  জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে ২০১৩-২০১৭ইং পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতিতে চাকুরী করেছেন। বর্তমানে তিনি গ্রাম আদালত সহকারী হিসেবে জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন।  

শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের আঙ্গারীয়া গ্রামের সনাতন পাড়ার নিপিন চন্দ্র বর্মনের মেয়ে নিয়তি রানী। এক ভাই ও দুই বোন সহ বাবা মাকে নিয়ে সামান্য কৃষি আয়ে চলে তাদের সংসার। বাবার সহযোগিতায় সকল বাধা উপেক্ষা করে এইচএসসি পাশ করেন। টিউশনি পড়িয়ে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়ে স্নাতক পাশ করেন। বর্তমানে একটি বেসরকারী সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এ গ্রাম আদালত সহকারী হিসেবে কর্মরত। সফল জননী নারী ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের  দেওয়ানেরখামার গ্রামের ময়দান আলীর স্ত্রী শেফালী পারভীন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এক ছেলে ও এক মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন। ছেলে এখন সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার, মেয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট।   

নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করেছেন জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোট খাটামারী গ্রামের ৪নং ওয়ার্ড বসুনটারী পাড়ার বাদশা মিয়ার মেয়ে নাজমা আক্তার। ৮ম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় আমার বিয়ে হয়। গর্ভে সন্তান আসার পর শ্বশুড় বাড়ী থেকে যৌতুক দাবী করে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। নেশাগ্রস্থ স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানকে নিযে বাবার বাড়ীতে চলে এসে জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে শহীদ লেঃ সামাদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনিতে ভর্তি হয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। বর্তমানে নাগেশ্বরী ডিগ্রী কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং বকুরতলী মহিলা সংসদ এর একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং টিউশনি করে সংসার চালাচ্ছেন। 

পাঠকের মন্তব্য