প্রথম দফায় শনিবার ঘর পাচ্ছে ৬৬ হাজার পরিবার : মুখ্য সচিব

প্রথম দফায় শনিবার ঘর পাচ্ছে ৬৬ হাজার পরিবার : মুখ্য সচিব

প্রথম দফায় শনিবার ঘর পাচ্ছে ৬৬ হাজার পরিবার : মুখ্য সচিব

দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রায় নয় লাখ পরিবারকে ঘর দিচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে শনিবার ৬৬ হাজার ১৮৯ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দেয়া হবে ঘর। প্রতিটি পরিবারের একজন নারী ও একজন পুরুষের নামে ভূমির মালিকানাসহ হস্তান্তর করা হবে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুই বোন এক ভাইয়ের সংসারে পেটের ক্ষুধা দূর করাই যেন একমাত্র সংগ্রাম পটুয়াখালীর বদরপুরের তেলিখালীর জেসমিন আকতারের। একটি সেমিপাকা বাড়ি তার কাছে দুঃস্বপ্নের মত। এমন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১ ভূমি ও গৃহহীন এবং ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১ গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

সেমিপাকা প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি বাথরুম, বারান্দা ও একটি ইউটিলিটি রুম। প্রথম ধাপে ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবার পাচ্ছেন এই বাড়ি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার একযোগে তাদের কাছে বাড়ি হস্তান্তর করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন মুজিববর্ষে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি পরিবারকে আলাদাভাবে ঘর করে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। করোনার মধ্যে ছয়মাসেরও কম সময়ে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যবহৃত হয়েছে দুই হাজার ৯৮ একর সরকারি খাস জমি। এসব জমির বেশ কিছু অবৈধ দখলদার ছিল। তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে জনকল্যাণে ব্যবহার করায় দু’টি উপকার হয়েছে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ গৃহদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বাড়িগুলোর নকশার ধারণা দিয়েছেন বলে এসময় জানানো হয়। ঘরগুলো এমন জায়গায় করা হয়েছে যাতে তাদের জীবনধারণের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা হলেও জমির দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা। 

সরকারি উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে ঘর দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। 

এ বিষয়ে আহমেদ কায়কাউস জানান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আরও ছয় হাজার ৫৭০টি ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেকেই নির্মাণ করে ফেলেছেন, অনেকেই করতে যাচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও এই দায়িত্ব নিয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য