চকচকে ঘরে ঢুকলি পরানডা জুড়োয় যায়

চকচকে ঘরে ঢুকলি পরানডা জুড়োয় যায়

চকচকে ঘরে ঢুকলি পরানডা জুড়োয় যায়

‘সারাডা জীবন কাটায় দিলাম কষ্টে। জমি নাই, ঘর দুয়োর নাই।পরের জাগায় পাটখড়ির বেড়া আর খ্যাড়ের চালের ঘরে জীবন কাটায় দিলাম। শেষ জীবনে প্রধানমন্ত্রী আমারে এ ঘর দিলো। তাও আবার ইটির দেয়াল আর চকচকে টিনির ঘর। ঘরের মদি ঢুকলি পরান জুড়োয় আসে। পাটখড়ির বেড়ার ফাঁকদে আর জাড় ঢুকতি পারবি নানে।’

মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ঘর ও ২ শতাংশ খাস জমি পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন মাগুরার জেলেখা বেগম। মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলার চরছাতিয়ান এলাকায় মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমিসহ নতুন ঘর পেয়েছেন তার মতো ১১৫ পরিবার।  

২৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে গণভবন থেকে ঠিকানাবিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সারা দেশে ৬৬ হাজার ১৮৯ পরিবার ঘর ও জমি পেলো। এরমধ‌্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ১৫ জন, শালিখা উপজেলায় ৫০ জন, মোহম্মদপুর উপজেলায় ৩০ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ২০ জন ঘর ও জমি পেয়েছেন।

প্রতিটি বাড়ির সামনে রয়েছে চলাচলের জন‌্য খানিকটা খোলা জায়গা। রয়েছে বাগান করার ব‌্যবস্থা। সেমি পাকা এসব বাড়ির প্রতিটিতে আছে একটি বারান্দা, দুটি শোবার ঘর, একটি করে গোসলখানা, টয়লেট ও রান্নাঘর। মাগুরা সদরের খালিমপুর গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর আক্কাস আলী নিজের জন্য তৈরি পাকা ঘরের দিকে চেয়ে দুচোখে জল ধরে রাখতে পারেননি। সারা জীবন দিনমজুরি আর রাতে স্থানীয় বাজারে নৈশপ্রহরীর কাজ করে মাথা গোজার ঠাঁই করতে পারেননি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যের জমিতে ছাপড়া করে থাকেন। এ অবস্থায় সরকার থেকে ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি।

একই অবস্থা বিধবা জাহেদা বিবির। স্বামী জামির হোসেন মারা যাওয়ার পর সহায় সম্বলহীন জাহেদার দিন চলে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চেয়ে চিন্তে। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় রাতের বেলায় অন্যের বাড়ির বারান্দায় থাকেন। জীবনের শেষ সময়ে এ ঘর পেয়ে সুখের যেন সীমা নেই তার।

গয়েশপুরের বিধবা নারী রিজিয়া খাতুন, আমলসারের রামচন্দ্রপুরের শাহীন মোল্যা বলেন, কোনো দিন পাকা বাড়িতে থাকতে পারব স্বপ্নেও ভাবিনি। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে ধরা দিয়েছে। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে বঁচিয়ে রাখুক।

মোহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ইতিমধ্যে সুবিধাভোগী বাছাই শেষ করেছি। নির্মাণ সামগ্রী কেনা থেকে শুরু করে সব বিষয় নিয়মিত তদারকি করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’মাগুরার জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম জানান, এ প্রকল্পের আওতায় মাগুরায় সরকারের ৮০০ ঘর তৈরি করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ১১৫টির কাজ শেষ হয়েছে।  

পাঠকের মন্তব্য