ডাক্তার তুমি কত কমিশন পাইছো ?

ডাক্তার তুমি কত কমিশন পাইছো ?

ডাক্তার তুমি কত কমিশন পাইছো ?

ডা. ফেরদৌস : ঘটনার শুরু আসলে গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে। 

এক কোভিড রোগি হঠাৎ তার অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। তিনি বাসায়ই ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোভিড রোগিরা আসলে হাসপাতালে যেতে চায় না। তারপরও যেতে হলে তো যেতেই হবে। তাই হাসপাতালে যাওয়ার পর আবার আরেকটি মুশকিল কোনো খবর পাওয়া যায় না। ডাক্তাররা ব্যস্ত যোগাযোগ করতে পারে না। রোগির ফোনে চার্জ নেই, কল দিতে পারে না। হাসপাতালে মোবাইল কাজ করে না ইত্যাদি। তাই আমি সবসময় পছন্দ করি আমার হাসপাতালেই ভর্তি করতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়। যেহেতু আমার একটি হাসপাতাল একটু দুরে কিন্তু চিকিৎসক এবং চিকিৎসক দলের সাথে যোগাযোগ সহজ সেখানে। তাই আমি দুরে হলেও রোগিদের নিয়ে যাই সেখানে কখনও কখনও। 

গত সপ্তাহে সেই রোগিটিকে বললাম আপনি প্রস্তুত হোন আমি যাবার পথে আপনাকে হাসপাতলে নামিয়ে দেব। কারণ আপনি এ্যাম্বুল্যেন্স কল করলে নিকটস্থ হাসপাতালে নিবে এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। রোগি এতটাই অসুস্থ্য তারপরও তিনি আমার মুখের উপর বলে ফেললেন আপনি কত কমিশন পাবেন ওই হাসপাতাল থেকে। রোগি যেহেতু সন্তানতু্ল্য তাই সেই কথার জবাব আমি দিতে পারিনি। পারবোও না কখনো দিতে। যাক রোগি নিজ দায়িত্বে আশেপাশের হাসপাতালে চলে গেলেন এবং তারপর দিন রোগির স্ত্রী আমাকে কল দিলেন তার স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছেন না। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে রোগির কোনো খবরাখবর নেই। তখন নিজেকে বললাম-হায়রে মানুষ কতটা বোকা।

ঘটনা দুই। একজন রোগি সে করোনা নিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালেই গেল। এরপর সেই রোগির খোঁজ মিললো দেড়দিন পর। দেড়শ’ মাইল দুরে কোনো এক অপরিচিত হাসপাতালে। যেখানে কোনো ভিজিটর এ্যালাউড না। 

যা বলছিলাম, আজ পরিস্থিতি কিছুটা একই। ত্রিশোর্ধ একজন রোগি। অনেকদিন ধরে পারিবারিকভাবে তার চিকিৎসা করি। গত দশদিন ধরে বাড়িতে বসেই তার চিকিৎসা চলছে। হঠাৎ তার অবস্থার কিছুটা অবণতি। অক্সিজেন ৮৮থেকে ৯০শতাংশ। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম হাসপাতালে পাঠাবো। সেই একই বক্তব্য-বললাম আমি তোমাকে আমার হাসপাতলে নিয়ে যাবো। কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো যে এতটা দুরে কেন ? কিন্তু রাজি হয়ে গেল এবং আমি খুব খুশি হলাম। আমার যেমন প্লান রোগির জন্য। যদিও একটু কষ্ট হবে রোগির। শহর থেকে দুরে নয়, শহরের মধ্যে পাঁচ মিনিট বেশি দুরত্বে। আমি হাইওয়েতে ছিলাম। গাড়ি হাইওয়ে থেকে ঘুরিয়ে আবার সেই রোগির বাসার কাছে চলে গেলাম। আমার চিকিৎসক দলের নেতার সাথে কথা বললাম তার হাসপাতালে রোগি নিয়ে আসছি আবারো। তুমি দল প্রস্তুত রাখো। যথাপি কথা তথাপি কাজ। ডাক্তার সাহেব কথা বলে দিলেন হাসপাতালে আমি ইমার্জেন্সিতে রোগি নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দিলাম। নার্সদের কাছে বলে দিলাম তার হিস্ট্রি এবং কি করতে হবে। 

রোগির স্ত্রীকে কল দিলাম, আশ্বস্থ করলাম। আর কি করতে পারি বলুন ? রোগিকে বলে আসলাম দেশি কোনো খাবার খেতে চাইলে আমাকে বলবা। 

কাজের মধ্যে আনন্দ আছে। যদি সেভাবে করা যায়। আমি সেভাবে চেষ্টা করি করতে কিন্তু গত সপ্তাহে সেই রোগির কমিশনের মন্তব্যটা ভুলতে পারি না। তারপর আবার হাইওয়েতে যাত্রা শুরু করলোম বাড়ির পথে, মায়ের সাথে আজ ডিনার করবো। মা কল দিলেন পিয়াজু বানাবেন কি না। রুগির স্ত্রীকে আশ্বস্থ করলাম সম্ভবত ৩/৪ দিনেই সে বাসায় ফেরৎ আসতে পারবে আল্লাহর রহমতে। সবাই দোয়া করবেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Dr Ferdous
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী; বাংলাদেশী  

পাঠকের মন্তব্য