প্রাচীন নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী বিলুপ্তির পথে

প্রাচীন নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী বিলুপ্তির পথে

প্রাচীন নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী বিলুপ্তির পথে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী সংস্কারের অভাবে বিলীন হতে বসেছে। জমিদার বাড়ী সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবী দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে জমিদার বাড়ী অবস্থিত। এক সময়ে কুচবিহারের মহারাজা শ্রী জগদীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের পূর্বভাগ চাকলার অন্তর্গত ছিল এ জমিদারি এলাকা।

 অবিভক্ত ভারত বর্ষে অনেক আগে নাওডাঙ্গা পরগনার জমিদার বাহাদুর খেতাবপ্রাপ্ত শ্রী শ্রী শ্রীল শ্রী যুক্ত বাবু প্রমদা রঞ্জন বক্সী নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ী নির্মাণ করেন ও তিনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা। শাসন আমলে পরগণার অধিন বিদ্যাবাগিশ, শিমুলবাড়ী, তালুক শিমুলবাড়ী, রসুন শিমুলবাড়ী ও কবির মামুদ প্রভৃতি জায়গায় শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত ছিল।

সে আমলে সেখানে তিনি একটি মাইনর স্কুল গড়ে দেন। সেটি এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশে গড়ে উঠেছে একটি স্কুল এন্ড কলেজ। শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতির প্রতি জমিদার বাহাদুর বিশ্বেস্বর প্রসাদ বক্সী ছিলেন সমান অনুরাগী। তার ইচ্ছায় সে সময় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের পূর্ণ জন্ম তিথি প্রতি দোল পূর্ণিমায় বাড়ীর সামনে বিস্তৃর্ন ফাকা মাঠে দোলের মেলা বসত। বিভিন্ন এলাকা থেকে দোল সওয়ারীরা বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে সিংহাসন নিয়ে এ দোলের মেলায় অংশ গ্রহণ করত। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার বাহাদুর সব কিছু ছেড়ে কোলকাতায় চলে যান।

ব্রিটিশ আমল, তারপর ভারত উপমহাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাকিস্থান। অতঃপর স্বাধীন বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারত সীমান্ত ঘেষা ফুলবাড়ী উপজেলায় ক্ষয়িষ্ণু অবয়ব নিয়ে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি। জমিদার, জমিদারী শাসন, প্রজা, গোমস্থা বিহীন সেটি এখন অরক্ষিত। ইট, চুন, সুড়কির নিপুন গাথুনির বিল্ডিংগুলো অসাধু ব্যক্তিরা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। পশ্চিম পাশের একটা দোতালা বিল্ডিং তারা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। অবশিষ্ট আছে সামনের মুল বিল্ডিং ও ভিতরের একটা ছোট বিল্ডিং। অসাধু ব্যক্তিরা সেখান থেকে বীম ও অনেক ইট খুলে নিয়ে গেছে। এগুলোকে আশ্রয় করে বেড়ে উঠছে অপ্রয়োজনীয় কিছু উদ্ভিদ। 

জমিদার চলে যাওয়ার পর জমিদার বাড়ীসহ প্রায় ৯ একর জমি অবৈধ দখল করে আছেন। সব মিলিয়ে জমিদার বাড়ীর ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে।
এখনো বিভিন্ন স্থানের দর্শনার্থী এ জমিদার বাড়ী ঘুরতে আসে তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে আর দখলদারিত্বের কারণে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে জমিদার বাড়ী। জমিদার বাড়ীর পাশে রয়েছে একটি বিষ্ণুমন্দির ও একটি সানবাধা পুকুর  ঘাট সেটিও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে। জমিদার বাড়ীর কোলঘেঁসে একটি স্কুল এন্ড কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস। জমিদার বাডীর ১০০মিটার উত্তর মাথা উঁচু করে রয়েছে একটি শিব মন্দির সেটিও প্রায় ধ্বংসের দিকে তাই এলাকাবাসী ও দর্শনার্থী প্রিয়নাথ, স্বপন বর্মন, শান্তনা রানী, মৌসুমী বেগম, জয়নাল আবেদীনের দাবী কালের সাক্ষী জমিদার বাড়ী সংস্কার ও সংরক্ষণের।

পাঠকের মন্তব্য