তুষার মুজিব আদর্শের সৈনিক; শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন

তুষার মুজিব আদর্শের সৈনিক; শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন

তুষার মুজিব আদর্শের সৈনিক; শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন

মোহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিল (মঈনুদ্দিন বাবু-মাজহারুল ইসলাম কাজল কমিটি ১৯৯৮ থেকে ২০০২), যে কমিটিতে আমি দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। মঈনুদ্দিন বাবুর ডানহাত হিসেবে ছাত্রদল-শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে হলে থাকতে বিশেষ করে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর নির্বাচনের পর ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান নিয়ে একমাত্র হল ছাত্রলীগের দখলে রাখে আমাদের সাথে। 

পহেলা অক্টোবর নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের প্রথম যে মিছিল ১২/১৩ জনের সেই মিছিলে আমরা একসাথে অংশগ্রহণ করে খালেদা-নিজামীর নীলনকশার নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদ করি। ১৩ নভেম্বর ২০০১ ছাত্রদলের হাজার হাজার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হল দখলে রাখার সশস্ত্র সংগ্রামে বাবু ভাইয়ের সাথে অংশগ্রহন করে। ঐদিন ছাত্রদল শিবির জহুরুল হক হল দখল করে তুষার সহ আমাদের  রুমের কম্পিউটারসহ সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। তারপর তার বিরুদ্ধে ঐসময় হুলিয়া জারি করে। 

হাসান জাহিদ তুষার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতিও ছিল (১৯৯৯-২০০৫) পর্যন্ত। ২০০২ এ বিবিসি বাংলা সার্ভিসে কাজ করার সময় তৎকালীন বিএনপি জামাতের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং প্রক্টর নজরুল ইসলামের পদত্যাগে বাধ্য করাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতাদের সাথে তারেক রহমান শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এই ছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির স্যুভেন্যুরে ছাপা হয় ঐ সময়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লেখনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে। ছাত্রদল ও হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লেখার জন্য ২০০৩ সালের ৩০ জুলাই মধ্যরাতে হাওয়া ভবনের নির্দেশে ছাত্রদল-শিবির প্রথমে ক্যাডাররা তুষারের উপর হামলা চালায়। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রাস্তায় মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। পরবর্তীতে আমাদের উপর গভীর রাতে হামলা করে।মাননীয় নেত্রী তুষারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এলিফ্যান্ট রোডের সিটি জেনারেল হাসপাতালে এনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমাদের চিকিৎসা করান। 

হাসান জাহিদ তুষার তখন বিরোধী দলে থাকার সময় সুধাসদনে সিআরআই-এ নিয়মিত ভলেন্টিয়ার করত। বিএনপি জামাতের অত্যাচার-নিপীড়ন, দুঃশাসন ও অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বাংলা সংবাদ ইংরেজি করে বিভিন্ন দূতাবাসে দেয়ার কাজ করতো। ২০০২-২০০৬ পর্যন্ত হাসান জাহিদ তুষার সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের অত্যাচার-নির্যাতন অপশাসন দুষ্কর্ম সেগুলির বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ এবং ডকুমেন্ট নেত্রীর কাছে সুধাসদনে পৌছে দিত। ১/১১ সময় মাননীয় নেত্রীর গ্রেফতারের আগেও বিভিন্ন ডকুমেন্ট নেত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়ে সাহায্য করেছে। 

হাওয়া ভবনের ছাত্রদল-শিবিরের ৩০০ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ২১ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের নিউজ করে আওয়ামী লীগের জন্য ২০০৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামাত প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবং হাওয়া ভবনের দলীয় নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে লিখে দলকে সাহায্য করেছে। 

১/১১ এর সময় সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধেও কলম ধরেছে। ১/১১ এর সময় সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিশেষ করে বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিক হিসেবে দলীয় কর্মীর ভূমিকা পালন করেছে। বিরোধী দলে থাকাকালিন সময়ে সভানেত্রীর সঙ্গে নিবিড় ভাবে কাজ করেছে।

১/১১ এর সময় দলের ত্যাগী নেতাদের পাশে বিশেষ করে জিল্লুর রহমান, সৈয়দ আশরাফ, মতিয়া চৌধুরী সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। এমনকি নেত্রী অ্যারেস্ট হওয়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস তুষারের বাসায় নিয়ে হেফাজতে রাখে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে আগাম তথ্য প্রদান করে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ  বিশেষ করে আওয়ামলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ মারুফা আক্তার পপি, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে তাদের অ্যারেস্ট হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বর্তমান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদকে নিজের বাসা থেকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে লুকিয়ে রেখে আসে। এভাবে জীবন বাজি রেখে তুষার বিরোধী দল এবং ১/১১ এর সময় দলের জন্য, নেত্রীর জন্য কাজ করেছেন।

দল ক্ষমতায় আসলে ডেইলি স্টারে থেকে নানান বঞ্চনা উপেক্ষা করে সরকার এবং দলের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে গেছে। হাসান জাহিদ তুষার ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে এবং ২০১৪ নির্বাচনে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে দলের পক্ষে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে এবং কাজ করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে অত্যন্ত ডেডিকেশন এবং কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নে আপোসহীন হাসান জাহিদ তুষার, সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে হাসান জাহিদ তুষার কে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বানিয়েছেন| হয়তো সেটাই অনেকের মাথা ব্যথার কারন| তুষার একজন সৎ, দক্ষ ও মুজিব আদর্শের সৈনিক শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষহীন। শেখ হাসিনার কাছ থেকে আপোষহীন নিবেদিত প্রাণ তুষারদের সরিয়ে দুরভিসন্ধি প্ল্যান successful করতে চায় কারা ??

তুষার ঢাকা বিশ্ব সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিল। সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ছিল, ছিল জহু হলের আইন সম্পাদক| নেত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে গিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরেই শিবির ছাত্রদলের হায়েনারা রড দিয়ে মারতে মারতে মৃত ভেবে চলে গিয়েছিল। মহান আল্লাহ এর মেহেরবানীতে সেদিন নতুন জীবন পেয়েছিল। জহু হলে তাঁর রুমের কম্পিউটার, নোট, বই খাতা সব পুড়িয়ে ফেলেছিল| সেদিন ও অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিল| সেমিস্টার পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারেনি। এক এগারোর সময়  জীবন বাজি রেখে আওয়ামীলীগ নেতাদের  সাহায্য করেছে| একটি বিশেষ বাহিনীর চোখ রাঙানি সত্ত্বেও বন্দি শেখ হাসিনা'র সার্বক্ষণিক তথ্য নিয়ে আওয়ামীলীগ এর হাই কমান্ডকে সজাগ রেখেছে।

তারেক জিয়ার সাথে তার ছবি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি হিসেবে কোথাও দেখা হয়েছে অথবা ছবি উঠিয়েছে| দল মত নির্বিশেষে, ওদের ওখানে ভিআইপি কেউ গেলে সম্মান দেওয়া একটা রেওয়াজ। হিন্দুর মন্দিরে মুসলিম ভক্তি করে আবার মুসুলমানের মাজারে হিন্দু চাদর চড়ায়| তাতে কারো ধর্ম কিংবা আদর্শ নস্ট হয়ে যায়না। 

কলেজ জীবন থেকেই সে নির্মোহ। লোভ একটাই শুধুই শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে| গত দশ বছরে অনেক হাইব্রিড অনেক কিছুই পেয়েছে, সে কিছুই চায়নি| এখন যাও কিছু পেয়েছে, আবার শুরু হয়েছে ষড়যন্ত্র| এভাবে একে অপরকে ধ্বংস করার কি খেলায় মেতে মূর্খ দালালরা।

লিয়াকত শিকদার ভাই, নজরুল ইসলাম বাবু ভাই, অজয় কর খোকন ভাই, বাহাদুর বেপারী ভাই, খালিদ ভাই সহ অগণিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা জীবিত আছেন। দয়াকরে তাঁদের কাছে তুষার এর পরিচয় নিশ্চিত হোন।

আপনি যদি নেত্রীকে ভালবাসেন, তাহলে দয়া করে উনার ভালোবাসার মানুষ গুলোকে কষ্ট দিবেন না। কারো ব্যাক্তি স্বার্থের জন্য এই ধরণের ত্যাগী এবং ভালো মানুষকে  হেয় করা শুধু অন্যায় নয়, পাপ ও বটে| দয়া করে এসব থেকে বিরত থাকুন। 

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Iqbal Mahmood Bablu 
লেখক : সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা 

 

পাঠকের মন্তব্য