রায়পুরে নদীভাঙ্গন; দেখার কেউ নাই 

রায়পুরে নদীভাঙ্গন; দেখার কেউ নাই 

রায়পুরে নদীভাঙ্গন; দেখার কেউ নাই 

"নদীর এপাড় ভাঙ্গে ওপার গড়ে
এইতো নদীর খেলা"

হ্যাঁ, নদী খেলা খেলতেই ভালবাসে। আর সেই ভালোবাসা অনেকের জন্য অর্থের উৎস আবার কাউকে করে স্বর্বশান্ত, নিঃস্ব। এ খেলা আল্লাহর হুকুমে হলেও কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ও প্রভাব রয়েছে।

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম মডেল যেখানে জীবন যাত্রার মান যথেষ্ট উঁচুতে। এ অঞ্চলের নারিকেল সুপারি, ইলিশ চিংড়ি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে লক্ষ লক্ষ ডলার জমা হয় রাজস্বে। কিন্ত সরকার যতটা পাচ্ছে এ অঞ্চলে, দিচ্ছে কতটা ?

রায়পুর উপজেলা ১০ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে ছোটবড় ২২ টি ইজারা সংশ্লিষ্ট হাট আছে। যার বেশিরভাগই রায়পুরের পশ্চিম অঞ্চল সংলগ্ন। রায়পুর উপজেলার সর্ব পশ্চিমে মেঘনা নদী অবস্থিত।

মেঘনা নদী রায়পুরকে হাইমচর উপজেলার সাথে সংযোগ করেছে। দীর্ঘদিন এ অঞ্চলের মানুষ নদীভাঙ্গনের ফলে হাহাকার, হতাশাগ্রস্ত আর যাযাবরের ন্যায় জীবন যাপন করার পর ডাঃদীপু মনির একান্ত চেষ্টায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে এ অঞ্চলকে নদীর করাল গ্রাস হতে মুক্ত করেন।

বর্তমানে মেঘনা নদী তীরবর্তী রায়পুরের ১,২ ও ৮ নং ইউনিয়নের মানুষজন পূর্বের সেই আশংকায় আশংকিত। গত কয় দিনের টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে অনেকের ফসলী জমি, নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে অনেকের বসতভিটা আর গবাদি পশু, তলিয়ে যাবার মুখে নিজেদের সম্বলটুকু।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টি আর কিছু অসাধুচক্রের ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফল হিসেবে নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে রায়পুরের পশ্চিম অঞ্চলে। ১ নং হায়দারগঞ্জ, ২ নং পুরান বেড়ির মাথা এবং ৮ নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙ্গন। 

যেসকল বাঁধগুলো ব্যক্তি উদ্যোগে করা হয়েছে,সেগুলো ও নিন্মমানের হওয়ায় জনগন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।এ অবস্থায় এ তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ ভূমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেলে মানচিত্র হতে বাংলাদেশের কিছু জমি হারিয়ে যাবে।

তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় বিত্তশালীদের প্রতি সাধারন জনগনের উদাত্ত আহবান, তাদের বসতভিটা রক্ষার্থে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানসহ যাতে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেদিকে নজর দিতে অনুরোধ করেন।

পাঠকের মন্তব্য