হালুয়াঘাটে সুদের টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হুমকি

হালুয়াঘাটে সুদের টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হুমকি

হালুয়াঘাটে সুদের টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হুমকি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুদের টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সুদ ব্যবসায়ীর বিরোদ্ধে। 

এ ঘটনায় দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামের হাজী মোঃ আব্দুল হাই এর পুত্র ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জুলহাস উদ্দিন মুক্তিপেতে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং হুমকি থেকে বাঁচতে গত ১৮ মে হালুয়াঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যাহার নং-৬০৪/২১।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী জুলহাস উদ্দিন ২০১৯ সনে স্থানীয় সুদের ব্যবসায়ী মৃত আবুল কাসেমের পুত্র শেখ ফরিদ এর নিকট থেকে ২টি অঙ্কবিহীন স্বাক্ষরিত চেক প্রদান করে ১১ লক্ষ টাকা কর্জ ঋণ হিসেবে গ্রহন করে ভারত থেকে আমদানিকৃত কয়লার ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে করোনা মহামারীর কারণে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী জুলহাসের ৪৫ লক্ষ টাকা ভারতে আটকা পরে, যা কোনদিন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি পদ্মা ব্যাংক হালুয়াঘাট শাখা ঋণ খেলাপী হিসেবে উক্ত ব্যবসায়ীকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন। কিন্ত শেখ ফরিদ তার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে ধার-দেনা করে ১৪ ফেব্রয়ারি ২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত শেখ ফরিদকে নগদ ১১ লক্ষ টাকা ও লাভ বাবদ ২ লক্ষ ৬৮ হাজার সর্বমোট ১৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ফেরত প্রদান করেন। কিন্ত শেখ ফরিদ উক্ত টাকা নিয়ে নিবৃত্ত না হয়ে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হিসেবে আরও ২৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তার দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে ভুক্তভোগীর ২টি অঙ্কবিহীন স্বাক্ষরিত চেক দিয়ে ক্ষতি করার হুমকি প্রদান করেন। 

ব্যবসায় দেউলিয়া হওয়ার কারণে চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ায় মানসিকভাবে শোচনীয় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। গত ১১ মে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্তিতিতে গণ-শুনানির এক পর্যায়ে উক্ত ঘটনাবলী মিমাংসা করা হয়। পরবর্তীতে মিমাংসা না মেনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-দমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে শেখ ফরিদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জুলহাসকে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যবসা করার জন্য দিয়ে ছিলেন। ব্যবসায় লাভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করছেন। এ ঘটনায় তিনি জুলহাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী জুলহাসের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম সহ উভয় পক্ষকে নিয়ে গণ-শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করার চেস্টা করে ছিলেন। সুদের ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য তিনি নিষেধ করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য