আবু সাদাতের বিরুদ্ধে সিডনিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আবু সাদাতের বিরুদ্ধে সিডনিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আবু সাদাতের বিরুদ্ধে সিডনিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সিডনিতে এক তরুণীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ-ইমিগ্রেশন ও স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সির একটি ফার্মের কর্ণধার আবু সাদাত সরকারের বিরুদ্ধে। যিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে হেলাল নামে পরিচিত। একের পর এক যৌন হয়রানি ও নির্যাতনে জড়িত আবু সাদাতের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া পুলিশের কাছে অসংখ্য নারী অভিযোগ করেছেন। 

নিপীড়নের দায় স্বীকার করে সিডনি পুলিশের কাছে মুচলেকাও দিয়েছেন এই আবু সাদাত। কিন্তু তরুণীদের যৌন হয়রানি থেকে নিজেকে সরাতে পারেননি। সিডনির মিউজিয়াম টাওয়ারে এইচবিডি অস্ট্রেলিয়া নামের ইমিগ্রেশন ও স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি ফার্মের মালিকানায় থাকা আবু সাদাত সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। 

ঢাকার স্কাটনে এইচবিডি সার্ভিসেস বাংলাদেশ নামে তার অফিস আছে। সিডনির ম্যাকুয়ার ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করছেন এমন বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন ছাত্রী ও প্রবাসী নারী আবু সাদাতের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। 

এমন যৌন হয়রানির শিকার ম্যাকুয়ার ইউনিভার্সিটির এক বাংলাদেশি ছাত্রী গতকাল সিডনি থেকে টেলিফোনে এক গণমাধ্যমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা থেকে আমার মোবাইল ফোনে ধারাবাহিকভাবে নোংরা মেসেজ পাঠাতে থাকে। এরপর আমি আবু সাদাত সরকারকে কল দেই। আমি এই কল ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য দেই, যেখানে তার কণ্ঠ স্পষ্ট বোঝা যায়। পরে তাকে সতর্ক করে একটি মেসেজ দিয়ে লিখি যে, আমি পুলিশে অভিযোগ করব। কিন্তু তারপরও সে থামেনি। তখন আমি সিডনির ইস্টউট পুলিশ স্টেশনে গিয়ে পুরো ঘটানা বলি। পুলিশ ঘটনা শুনে তা সঠিক যাচাই-বাছাই করে। এরপর এক ঘণ্টা সময় নিয়ে পুলিশ আমার অভিযোগের ফাইল করেন। 

সিডনি পুলিশের অভিযোগ নম্বর হলো- ই-৮০৫০১৫২০। 

আবু সাদাত সরকারকে ফোন দিয়ে পুলিশ হুঁশিয়ারি ও সর্তক বার্তা দিয়ে বলে যে, নোংরা মেসেজ বা কল, এই ধরনের কিছু করা হলে পুলিশ পরবর্তীতে অ্যাকশন নেবে। পরে আবু সাদাত সরকার পুলিশের কাছে যৌন হয়রানির সব অপরাধ স্বীকার করে এই বলে মুচলেকা দেয় যে, আমাকে আর বিরক্ত করবে না। ম্যাকুয়ার ইউনিভার্সিটির ওই ছাত্রী আরও বলেন, এই ঘটনার পরের দিন সকালে লম্পট আবু সাদাত সরকার আমাকে মেসেজ পাঠিয়ে বলে- তার সবকিছু হ্যাক হয়েছিল। 

এ ঘটনা নিয়ে আমার ফেসবুকে সচেতনতামূলক লেখা পোস্ট করেছি। ফলে অনেকেই পুরো ঘটনা জানতে পেরেছেন। তখন ম্যাকুয়ার ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমাকে জানানো হয় যে, তারা আমার পুলিশে দেওয়া অভিযোগ ই- ৮০৫০১৫২০ নম্বর ভেরিফাই করেছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পেয়েছে। এরপরও আবু সাদাত সরকার আমাকে বহুবার কল দেয়। কিন্তু পুলিশের পরামর্শে সেই ফোন রিসিভ করিনি। পরে বিকাল বেলা আবু সাদাত সরকার আমাকে মেসেজ পাঠিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে আইনজীবী দিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আবু সাদাত সরকার আমাকে ম্যাকুয়ার ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর তানভীর শহীদকে দিয়ে ফোন করে। তিনি প্রথম দিকে আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, লম্পট আবু সাদাত সরকারের অ্যাকাউন্ট আমি দেখছি কিনা যে প্রোফাইল হ্যাক হয়েছে। 

এরপর যখন আমি পুরো বিষয়টা বলি, তখন তানভীর শহীদ আমাকে বলেন, বুঝলাম আমাকে এখানেই আবু সাদাত সরকার শুধু ব্যবহার করতে চেয়েছে। কারণ পুলিশ অভিযোগের কথা আমাকে বলা হয়নি। পরবর্তীতে তানভীর শহীদ নিজেই উল্টো আমাকে ম্যাকুয়ার ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হয়রানির সংক্রান্ত লিগ্যাল অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এ প্রসঙ্গে ওই ছাত্রী আরও বলেন, প্রতিটি ঘটনার পরই লম্পট আবু সাদাত সরকার সংশ্লিষ্টদের বলেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। সে একটা ভয়ংকর প্রতারক।

পাঠকের মন্তব্য