লালপুরে অনলাইনে প্রায় ১৩ কোটি টাকার পশু বিক্রি

লালপুরে অনলাইনে প্রায় ১৩ কোটি টাকার পশু বিক্রি

লালপুরে অনলাইনে প্রায় ১৩ কোটি টাকার পশু বিক্রি

করোনাভাইরাস মহামারীতে ডিজিটাল হাটে কোরবানির পশু বিক্রি গতবারের চেয়ে এবার বেড়েছে কয়েকগুণ। করোনা সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমকে। চালু হয় অনলাইন পশুর হাট। গত বছর তেমন সাড়া না মিললেও এবার জমে উঠেছিল অনলাইন পশুর হাট। 

আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে অনলাইনে পশু বেচাকেনা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার নাটোরে লালপুরেও সাড়া জাগিছে অনলাইন পশু হাট। লালপুরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিলিয়ে ৯৫টি অনলাইনে প্রায় ১৩ কোটি টাকার পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. গোলাম মোস্তফা।

জানাগেছে, ‘লালপুরে এবার কোরবানি ঈদ ঘিরে অনলাইনে ২ হাজার ৭৮৭টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ ১ হাজার ৩৩৭ টি ও ছাগল-ভেড়া ১ হাজার ৪৫০ টি। এসব পশুর বিক্রি হয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিলিয়ে ৯৫টি অনলাইন পশুর হাট চালু ছিল লালপুরে। এসব হাটে ১৩ হাজার ৬৫৮ টি গবাদিপশুর ছবিসহ বিবরণ আপলোড করা হয়েছিল।’

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, ‘এবার কোরবানির জন্য লালপুরে প্রস্তত করা হয়েছিল সোয়া ৩২ হাজারের বেশি পশু। এর মধ্যে গরু ১১ হাজার ৭২৮ টি, ছাগল ২০ হাজার ৩৩ টি ও মহিষ ৪৪৫ টি। যা গত বছরের তুলনায় মোট পশুর প্রায় এক হাজার পশু বেশি। যার অধিকাংশই প্রস্তুত করা হয়েছিল বাসা বাড়িতে। আর এসব পশুর প্রায় ৯ শতাংশই বিক্রি হয়েছে অনলাইনে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঈদের আগ মূহুর্তে মানুষ হাটমুখি হওয়ায় অনলাইন হাটের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। তবে অনলাইন হাট বেশ সাড়া ফেলেছে। লকডাউনের কারণে আমরা আমাদের খামারিদের আগে থেকেই সক্রিয় করেছিলাম। আমরা অনলাইনে সক্রিয় থাকার কারণে গত ৯ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী এখানে আসেন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি থেকেও অনলাইনে দেখে পশু নিয়ে গেছে ব্যাপরীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনলাইন হাটে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী লালপুরে ১ হাজার ৩৩৭টি গরু-মহিষ ও ১ হাজার ৪৫০ টি ছাগল ভেড়ার তথ্য আপলোড করা হয়েছিল। মোট আপলোডকৃত পশুর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭৮৭ টি। এই তথ্য গুলো আমাদের নজরে এসেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো বেশি পশু ক্রয় বিক্রয় হয়েছে।’

এদিকে, লকডাউনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রাণিসম্পদের নির্দেশ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলায় বসেছে দুইটি ছাগলের হাট ও একটি গরুর হাট। ঈদের আগ মূহুর্তে এসব হাটে পযাপ্ত পশু আমদানি হওয়ায় এসব হাট গুলো জমে উঠছে।

অনলাইন পশু হাটে সহজেই নায্য দামে পশু বিক্রয় করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন খামরীরা। 

পাঠকের মন্তব্য