‘বেপরোয়া আমলাতন্ত্র, লজ্জিত আওয়ামী লীগ’

নাজনীন আলম

নাজনীন আলম

নাজনীন আলম : জুজুর ভয় দেখিয়ে ও দলকে ভুল বুঝিয়ে ২০১৮ এ আওয়ামী লীগের সহজ বিজয়ের নির্বাচনে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেয়ার (বিশেষ সুবিধা নিয়ে) কারিগর ছিলেন একজন প্রয়াত উপদেষ্টা ও তার আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট। নির্বাচনকে বিতর্কিতসহ দল ও এমপিদের হেয়/কোনঠাসা করতে মাঠ পর্যায়ে অতি উৎসাহিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গায়ে কাঁদা লাগাতে তারা সচেষ্ট ছিলেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র সব নেতাকে সাইড লাইনে বসিয়ে রেখে তিনি একাই খেলে যাচ্ছিলেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাজনীতিবিদদের নিষ্ক্রিয় রাখতে সব আয়োজনই করেছিলেন সেই উপদেষ্টা। এমনকি, নিজের পথ পরিষ্কার রাখতে কুমন্ত্র দিয়ে মন্ত্রীত্বে আসতে দেননি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনেককেই। 

২০১৪ এর সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কিছু সরকারি করকর্তা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছেন। দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলিতে কলে কৌশলে আওয়ামী বিরোধীদের বসিয়েছেন তারা। সাধারণ জনগনকে উনারা মানুষ বলেই মনে করেন না। সম্মানিত এমপি-মন্ত্রী, নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিসহ কাউকেই তারা পাত্তা দিতে চান না। আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী সমর্থকরা তাদের কাছে নাজেহাল হতে থাকে রীতিমত। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও ক্ষমতার দাপট দিনে দিনে বেড়েই চলেছে; যেন আওয়ামী লীগের মাঝা ভেঙ্গে দিতে এক জঘন্য খেলায় মেতেছেন তারা। দলীয় কোন ব্যক্তির অপরাধকে অতিরঞ্জিতভাবে মিডিয়াতে প্রচার করে আওয়ামী লীগকে হেয় করতে তৎপর রয়েছেন তাদের অনেকেই; এত উন্নয়নের পরেও মাঠে-ঘাটে জননন্দিত দল আওয়ামী লীগকে গালি খেতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী তাদের কাছে কোন কাজে গেলে সরকারের একমাত্র শক্তি ও রক্ষক হিসেবে তারা নানান গল্প শোনায়। "তারা ছাত্রলীগ করে নির্যাতিত, জামার নীচে কোপের দাগ এখনো আছে" -এমন মনগড়া কথা বলে দলীয় লোকদের অসহযোগিতা করে থাকেন। দলীয় নেতৃবৃন্দের কার্যক্রম ও দায়িত্বকে তারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে নিজেদেরকে সর্বদা মহাক্ষমতাধর হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। বিশেষ কারণে তাদের কাছে সরকার বিরোধীদের কদর অনেক বেশী। ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা দলীয় পরিচয় দিলে তারা দূর্ব্যবহার ও অসহযোগিতার মাত্রা বাড়িয়ে দেন। তাদের ভাব নমুনা দেখলে মনে হয় তারাই এদেশের রাজা-মহারাজা, আর সবাই তাদের গোলাম।  আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তিকে খর্ব করে আমলাতন্ত্র কায়েমই যেন তাদের কাজ। তারা বুঝতে চেষ্টা করে না, লগি বৈঠার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক শক্তি দিয়েই সবকিছু মোকাবেলা করেছিলো। 

উনারা নিজের পক্ষে আইন বানিয়ে সবার উপর চাপান। নিজেদের জাহির করতে জমিদারী কায়দায় প্রটোকলের বিধান তৈরী করেন। অন্যান্য ক্যাডারভূক্ত সকল কর্মকর্তাকে হেয় করে নিজেরা প্রভু সাজেন।রাষ্ট্রীয় মিটিং-সমাবেশ ও কাজে ক্যাডার সার্ভিসের অন্যদের সাথে তারা বাড়ীর চাকরের মত আচরণ করেন। সুকৌশলে নিজেদেরকে প্রাধিকারভূক্ত কর্মকর্তা সাজিয়ে প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য ক্যাডারকে বঞ্চিত ও হেয় করে সকল সুযোগ সুবিধা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিচ্ছেন তারা। ফলে সরকারের মহানুভবতাসহ প্রচুর সুযোগ সুবিধা দেয়ার পরেও ২/১ টি ক্যাডারের বিমাতাসুলভ, হটকারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে দিনে দিনে হতাশ ও খুব্দ হচ্ছেন ক্যাডার সার্ভিসের সিংহভাগ কর্মকর্তাসহ প্রজতন্ত্রের কর্মচারিগণ। এছাড়া, ২/১ টি বাহিনীর কোন কোন জেলার কিছু কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহারসহঙ বেপরোয়া কার্যক্রমে দলীয় লোকজনও বিরক্ত ও আতঙ্কিত । ভালো পোস্টিং এবং যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগসহ সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন তারা। তাদের গুটি কয়েকের কারণে বাহিনীর সারা দেশের বঞ্চিত/উপেক্ষিত/কোণঠাসা সরকার সমর্থক সদস্যরাও দিনে দিনে নাখোশ হচ্ছেন। 

প্রশাসনের কারো কারো অতি বাড়াবাড়ি ও চেয়ারের দাপট অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্দ করে দিচ্ছে। দল টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকলেও তৃণমূলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের জন্য কোন সেক্রিফাইজ বা মূল্যায়ন তাদের কাছে নেই।

আমলাতন্ত্রের কাছে রাজনীতিবিদগণ তাচ্ছিল্যের পাত্রে পরিণত হয়েছেন, যা দলীয় শক্তিকে দিন দিন খর্ব করছে। এভাবে চলতে থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব হুমকীতে পড়তে বাধ্য। বরিশালের মেয়র ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যের সাথে ঘটনাটি তারই ঈঙ্গিত বহন করছে। সারা বাংলার আওয়ামী নেতাকর্মীদের মনোবলে কুঠারাঘাত করতে এমন ঘটনা একটিই যথেষ্ট। 

লেখক : ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য 

পাঠকের মন্তব্য