পুলিশ বাহিনীর একাংশের অপরাধপ্রবণতা; উদ্বেগজনক

পুলিশ বাহিনীর একাংশের অপরাধপ্রবণতা; উদ্বেগজনক

পুলিশ বাহিনীর একাংশের অপরাধপ্রবণতা; উদ্বেগজনক

পুলিশ বাহিনীর একাংশের অপরাধপ্রবণতার আরেকটি বড় উদাহরণ তৈরি হয়েছে। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রাম থেকে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছিল রংপুর সিআইডির এএসপিসহ পুলিশের আরও তিন সদস্য।

জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে একদল লোক মাইক্রোবাসে জনৈক লুৎফর রহমানের বাড়িতে যান। তারা সিআইডি পরিচয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন।

তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা খাতুন ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান তারা। পরদিন সকালে মা ও ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে এই আশ্বাসে ছেলে জাহাঙ্গীরের ফোন থেকে তার পরিবারের অপর সদস্যদের কাছে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

এক পর্যায়ে ২০ লাখ এবং সর্বশেষ ৮ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। জাহাঙ্গীরের পরিবারের লোকজন বিষয়টি চিরিরবন্দর থানাকে অবহিত করলে থানা পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী মুক্তিপণের টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্বজনরা অপহরণকারীদের দেওয়া ঠিকানামতো রানীরবন্দর এলাকায় যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিরিরবন্দর থানার এসআই তাজুল ইসলাম। কয়েক দফা জায়গা বদলের পর জাহাঙ্গীরের স্বজনরা যখন অপহরণকারীদের নির্দেশমতো বাঁশেরহাট এলাকায় যান, তখন অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দশমাইলের দিকে রওনা হয়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন ও কোতোয়ালি থানার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ চারজনকে আটক করে। তারা হলেন রংপর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক ও মাইক্রোবাস চালক হাবিব। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফসিউল আলম নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

বলা বাহুল্য, পুলিশের অপকীর্তি এটাই প্রথম নয়, এর আগেও পুলিশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল। পুলিশের হাতে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে অনেক।

২৫ বছর আগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রুবেল হত্যা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালে কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর হত্যা পুলিশের অপরাধের দুটি বড় উদাহরণ। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়াসহ নানা ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে পুলিশের একাংশ জড়িত থেকেছে। পুলিশের ডিআইজি মিজানের কাহিনি তো একসময় ‘টক অফ দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছিল।

জনগণের করের টাকায় বেতনভুক পুলিশ বাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সমাজে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে-এটাই প্রত্যাশিত। অথচ তাদের একাংশ এই ব্রত পালন না করে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডেই লিপ্ত হয়ে পড়ছে।

বিষয়টি শুধু অনভিপ্রেতই নয়, উদ্বেগজনকও বটে। বিপদে পড়লে সাধারণ মানুষের যখন পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথা, তখন উলটো পুলিশই তাদের বিপদে ফেলছে! এ অবস্থা বেশিদিন চলতে পারে না। পুলিশের চারিত্রিক স্খলনের কারণ আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। তবে কি পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের মধ্যেই রয়েছে কোনো গলদ ? পুলিশ কেন মানবিক হয়ে উঠতে পারছে না, কেন তারা গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।

পুলিশ বাহিনী যাতে মানবিকতার চর্চা করতে পারে এবং তাদের মধ্যে যাতে সেবাধর্মী মনোভাব জন্ম নিতে পারে, প্রশিক্ষণের মধ্যেই সেই ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করি আমরা। সবশেষ কথা, অপরাধী পুলিশ সদস্যদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে পুলিশের অপরাধপ্রবণতা দূর করা যাবে না।

দিনাজপুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে-এটাই সবার প্রত্যাশা।

পাঠকের মন্তব্য