রুটিন না পেলে কুবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার হুমকি; উপাচার্যের ফোন

রুটিন না পেলে কুবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার হুমকি; উপাচার্যের ফোন

রুটিন না পেলে কুবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার হুমকি; উপাচার্যের ফোন

পরীক্ষার রুটিন না পেলে আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়েছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১২ তম ব্যাচের  শিক্ষার্থী মো. আনিসুর রহমান। তবে তাকে ফোন দিয়ে পরীক্ষার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।

এই বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমি ওর সাথে কথা বলেছি, ওর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বলেছে। আমরা বুঝিয়েছি। সে বুঝেছে, আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নিলে কালকেই নিতে পারবে। আর অফলাইনে নিলে আমাদের পরীক্ষাগুলো খুব শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে।

একই বিষয়ে বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, আমি তার সাথে কথা বলেছি। যাতে কোনো কিছু করার আগে আমার সাথে কথা বলে। আর বিভাগের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। কারন করোনার কারনে সবাই তো পিছিয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের সেশনজট কমাতে অনলাইন পরীক্ষার দিকে অনেকদূর এগিয়েছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে 'Comilla University' গ্রুপে এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আনিসুর রহমান।

সেখানে তিনি লিখেন, 'আমি কুবির বুকে শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করবো। আত্মহত্যার ডেইট হয়তো আর পিছাতে পারছি না! চার বছরে ৪ সেমিস্টার অপেক্ষার অবসান কোথায়? আত্মহত্যা ছাড়া কোন সমাধান দেখছি না।কারণ আমার বর্ষের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেটার অনার্স শেষ। ন্যাশনালে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ৪র্থ বর্ষে পড়ে। আমার একবছরের ছোট জাবিতে পড়ুয়া বোন আমার বর্ষের। কুবিতে ভর্তি হওয়াটা কি আমাদের অপরাধ ছিল ?

পরিবারে যখন অভাব আর অসুস্থতা থাকে তখন স্বপ্নগুলো কতোটা লজ্জা পায়। যেটা হয়তো প্রশাসন হয়তো বুঝবে না। কারণ উনাদের মাস শেষে একাউন্টে বেতন ঢুকে যাচ্ছে অভাব বলতে কিছু নেই।অনার্স প্রথম আর শেষ বর্ষ বুঝি না। সকল ব্যাচের এক সাথেই পরীক্ষা শুরু করতে হবে কেননা সবাই জটে আছে। সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে পরীক্ষার রুটিন না পেলে আমি কুবির বুকে শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করবো।'

উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সশরীরে পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ যেখানে কেবল স্নাতকোত্তর ও স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এর আগে কেবল স্নাতকোত্তর দিয়ে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনার প্রেক্ষিতে পরিবর্তন করে স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য