ট্রাফিক আইন; পুলিশের কঠোরতা অপরদিকে উদাসীনতার অভিযোগ 

সিলেট নগীরর পয়েন্টে-পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ

সিলেট নগীরর পয়েন্টে-পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ

সিলেট নগীরর পয়েন্টে-পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্ট। মিনিটে-মিনিটে মোটরসাইকেল আরহীদের থামিয়ে দেখা হচ্ছে কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট। আর যদি কোন মোটরসাইলে সাংবাদিক বা প্রেস লিখা দেখা যায় তাহলে ট্রাফিক পুলিশকর্তার কাছে হেনস্থার শেষ নেই। যদি একটিও কোন আইন ভঙ্গ করেন জবাব দিতে দিতে এর শেষ নেই সাংবাদিকদের। তাছাড়া সম্প্রতি কয়েক মাস পূর্বে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় প্রেস লিখা মোটরসাইকেল ও কাগজবিহীন গাড়ি বহনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৭ সেপ্টম্বর ২০২১ইং সিলেটের স্থানীয় এক দৈনিকে প্রকাশিত পুলিশের ৩ সদস্য হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহী বাধ্যতামূলক মাস্ক না পরেই দিব্যি নগরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে একটি সংবাদের শিরোনামে ''হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল ৩ পুলিশ'' উল্লেখ্য করে সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদটি প্রকাশের সাংবাদিক ততা সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনার ঝড় বইছে।

উল্লেখ্য যে, আইনের সেবক হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙুগুলি দেখিয়ে এমন কাজ জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কতিপয় পুলিশ সদস্যদের এমন কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সচেতন মহল। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। একজন সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিকরা যেখানে আইন লঙ্ঘন করলে মামলা ও জরিমানা গুণতে হয়। সেখানে পুলিশ সদস্যরা কোন যুক্তিতে পার পেয়ে যান এমন প্রশ্ন সাধারণ জনগনের।

৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর উপশহর পয়েন্ট থেকে তিন পুলিশ সদস্য একটি মোটর সাইকেল (যার নম্বর-ঢাকা মেট্রো ল-২৩৭৭২০) চড়ে কোতওয়ালী থানা এলাকায় আসেন। এসময় তাদের কারো মাথায় ছিলো না হেলমেট। চালকের মুখে ছিলোনা মাস্ক। পথিমধ্যে তিনটি বড় পয়েন্টে (মেন্দিভাগ পয়েন্ট, সোবহানীঘাট ও কোর্ট পয়েন্ট) কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ তাদের আটকায়নি। এইসব অপরাধে ট্রাফিক আইনে মামলা ও জরিমানা বিধান। থাকলেও শুধু মাত্র পুলিশ সদস্য হিসেবে হাত উচিয়ে পার পেয়ে যান তারা। এসময় নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় এক পথচারী বলেন, তারা (পুলিশ) আইন ভাঙলে কিছু হয় না, আমরা এসব করলে উপায় নেই, তাদের জেল জরিমানা নাই, যত আইন আমরা সাধারণ মানুষের জন্য। অনুরূপ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক ওই উক্তিটি প্রকাশ করেন।

ট্রাফিক আইন পালন ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করে পুলিশ প্রশাসন। করোনা পরিস্থিতিতে গত এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেয়া কঠোর লকডাউনে কঠোর অবস্থানে ছিলো পুলিশ প্রশাসন। বিধি নিষেধ অমান্য ও ট্রাফিক আইন না মানায় সিলেটসহ সারা দেশে যানবাহন আটক, মামলা ও জরিমানা করা হয়। সিলেটে কয়েক হাজার যানবাহন আটক, মামলা ও কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিককে আইনের প্রতি প্রদ্ধাশীল হতে হবে। যেসব পুলিশ সদস্য আইন ভেঙেছেন তাদের অবশ্যই আইনের প্রতি সদয় হতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য